ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় দিল্লির প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণের জন্য ভারত সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জানিয়েছে তেহরান। ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস একে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্কের প্রতিফলন এবং পারস্পরিক সম্মানের শক্তিশালী প্রকাশ বলে উল্লেখ করেছে। খবর এনডিটিভির।
গত শুক্রবার খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ভারতের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল তেহরানে অংশ নেয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন, বিহারের গভর্নর (অব.) লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আতা হাসনাইন এবং ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্ঘারিটা।
এছাড়া ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা সালমান খুরশিদ, জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) প্রধান মেহবুবা মুফতি এবং শিখ, হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতারাও পৃথকভাবে খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক দীর্ঘ বার্তায় ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস ভারত সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, বুদ্ধিজীবী, ধর্মীয় নেতা এবং সাধারণ জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
দূতাবাসের বিবৃতিতে বলা হয়, ভারতে অবস্থিত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের দূতাবাস দিল্লি সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও গভীর প্রশংসা জানাচ্ছে। বিশেষ করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নেয়া সরকারি প্রতিনিধিদলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। শহীদ নেতা আলি খামেনির প্রতি তারা যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের উপস্থিতি দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক সম্পর্কের প্রতিফলন।
ইরানি দূতাবাসের ভাষ্য, জাতীয় শোকের এই সময়ে ইরানের জনগণের প্রতি ভারতের এই সংহতি পারস্পরিক সম্মান ও আন্তরিক বন্ধুত্বের শক্তিশালী প্রকাশ। ইরানের জনগণ এই বন্ধুত্ব, সহমর্মিতা ও আন্তরিক শ্রদ্ধার নিদর্শন কখনো ভুলবে না। এটি দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করার একটি মূল্যবান ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।
খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, সোমবার সকালে তেহরানে আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের শোভাযাত্রা শুরু হয়। এটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা স্থায়ী হতে পারে। শোভাযাত্রাকে দেশটির আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগমগুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
খামেনির জাতীয় পতাকায় মোড়ানো কফিন এবং একই হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের সদস্যদের কফিন একটি বিশেষভাবে সাজানো ট্রাকে বহন করা হচ্ছে। ট্রাকটির পাশ এমনভাবে অলংকৃত করা হয়েছে, যাতে তা কোনো ইমামের মাজারের অলংকৃত জালির মতো দেখায়।
কালো পোশাক পরিহিত হাজার হাজার শোকাহত মানুষ ট্রাকের পাশে ভিড় করেন। অনেকে কফিন স্পর্শ করার চেষ্টা করেন, আবার কেউ কেউ স্কার্ফ বা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ট্রাকের সেবাকর্মীদের হাতে তুলে দেন, যাতে সেগুলো কফিনের সঙ্গে স্পর্শ করিয়ে আশীর্বাদ হিসেবে ফিরিয়ে দেয়া যায়।
অন্যদিকে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে উপস্থিত জনতাকে স্বস্তি দিতে আয়োজকেরা পানি ছিটিয়ে দিচ্ছেন।
বিশাল জনসমাগমের কারণে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাউডস্পিকারে বারবার ধীরে চলার, ধাক্কাধাক্কি না করার এবং রাস্তার পাশে অবস্থান করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কর্মকর্তা জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ জানান, প্রায় ১২ ঘণ্টার শোভাযাত্রা শেষে কফিনগুলো তেহরানের মেহরাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেয়া হবে।
ইরানের সরকার আশা করছে, এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা যাবে। ইতোমধ্যে তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চত্বরে কয়েক লাখ মানুষ জড়ো হয়ে খামেনির স্মরণে পতাকা ও ব্যানার বহন করছেন।
রাষ্ট্রীয় শোক পালনের অংশ হিসেবে রাজধানীর বহু সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে, আকাশসীমায়ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং স্বাভাবিক কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে।
গত শনিবার শুরু হওয়া এই শোকানুষ্ঠান বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। এরপর ৮৬ বছর বয়সী আলি খামেনিকে তাঁর জন্মস্থান মাশহাদের ইমাম রেজার পবিত্র মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হবে।

হক
১ ঘন্টা আগেমানবজমিন তো মনে হোচ্ছে ভারতের দালাল