অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জনপ্রিয় পপ তারকা কাইলি মিনোগকে নিয়ে একটি পডকাস্টে করা মন্তব্যের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। গত সপ্তাহে প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে তাঁর মন্তব্য ঘিরে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৬ জুলাই) এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি আমার মন্তব্যের জন্য নিঃশর্তভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে কৌতুক অভিনেত্রী নিকি ওসবোর্নের সঞ্চালিত ‘বুশ ডিপ’ নামে পডকাস্টে। প্রায় ২০ মিনিটের সাক্ষাৎকারে ওসবোর্ন প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান, গায়িকা কাইলি মিনোগ এবং বিনোদন জগতের ব্যক্তিত্ব রোন্ডা বার্চমোর- এই তিনজনের মধ্যে কাকে তিনি কার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করবেন, বিয়ে করবেন অথবা ডেট করবেন।
এর জবাবে প্রথমে প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন আলবানিজ। তিনি বলেন, আমি তো সবে বিয়ে করেছি, মাত্র ছয় মাস হয়েছে। কিন্তু ওসবোর্ন বারবার একই প্রশ্ন করলে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত বলেন, ওহ, কাইলি- অবশ্যই।
এরপর ওসবোর্ন আবার জিজ্ঞাসা করেন, তাহলে কাইলিকেই বিয়ে করবেন, তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করবেন এবং ডেটও করবেন? জবাবে আলবানিজ বলেন, সবই। তিনি দারুণ একজন মানুষ।
সাক্ষাৎকারটি অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে ধারণ করা হয়েছিল এবং গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রকাশিত হয়। তার এসব মন্তব্য প্রকাশের পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
দেশটির স্বতন্ত্র এমপি জালি স্টেগল এমন মন্তব্যকে “সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে এমন প্রশ্নের প্রতিবাদ করতে শেখা উচিত ছিল এবং যৌনতাবাদী আচরণের বিরুদ্ধে উদাহরণ সৃষ্টি করা উচিত ছিল।
এ ছাড়া দেশটির বিরোধী দলের যোগাযোগবিষয়ক মুখপাত্র সারা হেন্ডারসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য বিব্রতকর এবং প্রধানমন্ত্রীর পদমর্যাদার মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, আলবানিজ বর্তমানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সফরে থাকায় ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন রিচার্ড মার্লেস। তিনি অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে (এবিসি) বলেন, সরকার সমাজে নারীদের মর্যাদা ও সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন ধরনের সাক্ষাৎকারে অংশ নিই। তবে এটাও মনে রাখা দরকার, প্রধানমন্ত্রী যে সরকার পরিচালনা করছেন সেটিই অস্ট্রেলিয়ার ইতিহাসে প্রথম মন্ত্রিসভা, যেখানে নারী ও পুরুষ সদস্যের সংখ্যা সমান।
