কিশোরীকে গণধর্ষণ-হত্যায় উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, গ্রেপ্তার ৩

কিশোরীকে গণধর্ষণ-হত্যায় উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ, গ্রেপ্তার ৩

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুরে এক কিশোরীর দেহ উদ্ধারের পরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বারুইপুর। ঘটনার সূত্রপাত, রোববার সকালে। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, শনিবার বিকেলে খাবার কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল কিশোরী। কিন্তু অনেকটা সময় কেটে গেলেও বাড়িতে ফেরেনি। মেলেনি কোনো খোঁজ। এরইমধ্যে সোমবার সকালে বাড়ির কাছের একটি পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয় কিশোরীর দেহ। এরপরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। রেললাইন অবরোধ করা হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিল সড়ক।

ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগও উঠেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বারুইপুরের ঘটনায় মোট চারটি মামলা হয়েছে। তার কথায়, জঘন্যতম অপরাধের মামলা ছাড়া আরও তিনটি হয়েছে। প্রথমটার বিচার দেব। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেব।’বাকি তিনটি কাণ্ডে যারা জড়িত, তারাও ছাড় পাবেন না, জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এনিয়ে ইতিমধ্যে শুভেন্দু অধিকারী কথা বলেছেন নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে। দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রীর নির্দেশে বিকেলের মধ্যেই ৬ সদস্যের সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। সিটের নেতৃত্বে বারুইপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত এসপি পিনাকী দত্ত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে।

সোমবার দুপুরে বারুইপুর বাজার থেকে আনন্দ সর্দার নামে যাকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাকেই মূল অভিযুক্ত বলে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন। আনন্দকে জেরা করে এই ঘটনার সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, তা জানতে চাওয়া হবে। দ্রুত ঘটনার কিনারা করতে চাইছে তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, নাবালিকার মৃতদেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, যৌন নির্যাতনের পর ভারী বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে।
বারুইপুরের ঘটনায় প্রভাস মণ্ডল এবং দিবাকর সর্দারকে প্রথম গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের দু’জনকেই সোমবার বারুইপুর আদালতে হাজির করানো হয়। আদালতে সরকারি আইনজীবী জানান, এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তদন্তের স্বার্থে এখনও গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করানো বাকি রয়েছে। পাশাপাশি, তথ্য-প্রমাণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই দুই অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেয়ার আবেদন জানানো হয়। ধৃত তৃতীয় জনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করানো হবে।

বারুইপুরে কিশোরীর অস্বাভাবিক মৃত্যু এবং গণপিটুনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারি, ‘জঘন্যতম’ যে অপরাধ হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হবে।
একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, গোলমাল ও গণপিটুনির ঘটনায় যে তিন মামলা রুজু হয়েছে, তার সঙ্গে জড়িতদেরও রেয়াত করা হবে না। গণপিটুনির যে মামলা হয়েছে, তার নেপথ্যে তিনি ‘সাম্প্রদায়িক যোগ’ দেখছেন। প্ররোচনার অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ভোটে হেরেই বারুইপুরে গোলমাল পাকিয়েছে বিরোধীরা। মঙ্গলবার বারুইপুরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু।

অন্য দিকে, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘ঘরবন্দি’ হয়ে থাকলেও সোমবার নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বারুইপুরের ধপধপিতে গিয়েছেন মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে চার নেতানেত্রী।

দোলা সেনের নেতৃত্বে জয়নগরের সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল, বারুইপুর পশ্চিমের প্রাক্তন বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এরাকায় গিয়েছিলেন। সিপিআইএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে গিয়েছে এক প্রতিনিধিদলও। সকলেই নির্যাতিতার অসহায় পরিবারের তরফে দ্রুত সুবিচারের দাবি তুলেছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন