রাশিয়ার টহল বিমানকে প্রতিহত করলো বৃটেন, উড়ল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান

রাশিয়ার টহল বিমানকে প্রতিহত করলো বৃটেন, উড়ল এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান

ফন্ট সাইজ:

নরওয়েজিয়ান সাগরে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন একটি বিমানবাহী রণতরী বহরের কাছে বারংবার চলে আসা রুশ সামুদ্রিক টহল বিমানকে প্রতিহত করতে বৃটেনের এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার এই তৎপরতা ছিল অনিরাপদ ও অপেশাদারসুলভ।

বৃটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাশিয়ার বিয়ার-এফ সামুদ্রিক টহল বিমানটি নিম্ন উচ্চতায় উড়ে এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস বিমানবাহী রণতরীর খুব কাছাকাছি চলে আসে। বিমানটি সাগরে প্রায় ১০টি সোনোবয় ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোনোবয় হলো পানিতে ভাসমান বিশেষ ধরনের নজরদারি যন্ত্র, যা সোনার প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাবমেরিন ও অন্যান্য নৌযানের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ বাহিনী আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ফ্রিকোয়েন্সিতে রুশ বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া পায়নি। পরে এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস থেকে দুটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করে রুশ বিমানটিকে বিমানবাহী রণতরী বহর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

বর্তমানে বৃটেনের ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ ন্যাটোর কমান্ডের অধীনে আইসল্যান্ডের উপকূলের কাছে মোতায়েন রয়েছে। এই বহরে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ব্রিটিশ সামরিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।

বহরটিতে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস, টাইপ-৪৫ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার এইচএমএস ডানকান, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, মার্লিন ও ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার এবং রসদবাহী জাহাজ আরএফএ টাইডস্প্রিং।

ইউরোপীয় কোনো বিমানবাহী রণতরী থেকে ন্যাটোর বিমান নজরদারি অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে এটিই প্রথম ঘটনা।

ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েক সপ্তাহ আগে ইংলিশ চ্যানেলে রয়্যাল মেরিনস রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’–এর একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অভিযান চালিয়েছিল। একই সঙ্গে বৃটেনের সামরিক বাহিনীর প্রধান সতর্ক করে বলেছেন, শীতল যুদ্ধের পর থেকে এখনই দেশটি সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখোমুখি।

সপ্তাহান্তে বিমানবাহী রণতরী এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস পরিদর্শন করেন বৃটেনের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড্যান জারভিস। তিনি বলেন, আমরা ক্রমেই আরও বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে বসবাস করছি। আইসল্যান্ডসহ আমাদের মিত্র ও অংশীদারদের সহযোগিতায় পরিচালিত এ ধরনের মোতায়েন ন্যাটোর অংশ হিসেবে আমাদের প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করছে।

চ্যানেল ৪ নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে, রাশিয়ার হুমকি সব ক্ষেত্রেই বিদ্যমান- সমুদ্রের নিচে, সমুদ্রপৃষ্ঠে, স্থলভাগে, আকাশে, মহাকাশে এবং সাইবার জগতেও।

গত জুনে বৃটেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান স্যার রিচার্ড নাইটন বিবিসিকে বলেন, রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরীক্ষা, চ্যালেঞ্জ ও যাচাই করছে এবং এমন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে চলেছে।

অন্যদিকে ন্যাটো আগেই সতর্ক করে দিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়া সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

এদিকে গত সপ্তাহে বৃটেন সরকার বহু প্রতীক্ষিত নতুন প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সামরিক ব্যয় ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এ অর্থের একটি অংশ সরকারের অন্যান্য বিভাগের বাজেট কমিয়ে জোগান দেয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন