হালান্দের গোল তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না ব্রাজিলের

হালান্দের গোল তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না ব্রাজিলের

ফন্ট সাইজ:

ফুটবল দুনিয়াকে তাক লাগিয়ে দিলেন হালান্দ। বলই পেলেন মাত্র চারটি। এ থেকেই দুটো গোল। অবাক হওয়ারই কথা। ফুটবল শো নয়, এ যেন রীতিমতো 'হালান্দ শো'। এখন তিনি শুধু ইউরোপের গোলমেশিন নন, বিশ্ব ফুটবলেরও গোলমেশিন। তাকে রোখা গেল না কোনোমতেই। যদিও ব্রাজিল পেনাল্টি পায় শুরুতেই। অথচ তারা একের পর এক গোল মিস করেছে। চূড়ান্ত পর্যায়ে হালান্দের ক্যারিশমা তাকিয়ে দেখা ছাড়া ব্রাজিলের কিছুই করার ছিল না। অবশ্য শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল পায় ব্রাজিল। নেইমারের বল নরওয়ের জালে। কিন্তু রেফারি তখন শেষ বাঁশি বাজানোর অপেক্ষায়। বিদায় নিতেই হলো ব্রাজিলকে। দীর্ঘদিন তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বাড়ি ফিরেছে। আর এদিকে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের আসরে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটলো নরওয়ে।
রেকর্ড বলছে, আজকের আগে চারবার মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল-নরওয়ে। কিন্তু একবারও জয়ের স্বাদ পায়নি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। নরওয়ে জিতেছে দুটি ম্যাচ। বাকি দুটিতে ড্র।  ২০ বছর আগে শেষ দেখা হয়েছিল দুই দলের। আর আজকের দেখায় বাজিমাত করেই ফেলল ডার্ক হর্সরা।
টানটান উত্তেজনা। শুধু মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারি নয়, ফুটবল বিশ্ব নজর রাখছিল এই লড়াইয়ে। আখেরে রেডমিট নয়, তরতাজা কলিজা পছন্দ করা হালান্দ দেখালেন তিনি কতটা তরতাজা, শক্তি রাখেন কেমন!
খেলার শুরুটা ছিল চমকে ভরা। কিন্তু একের পর এক শট মিস ব্রাজিলকে নিয়ে যায় খাদের কিনারায়। নরওয়েকে নিয়ে ব্রাজিলের অতীত অভিজ্ঞতা ভয়েরই ছিল। কিন্তু আজকের লড়াই সেই ভয়টাকেই সিল মারলো পাকাপোক্তভাবে। নরওয়ে খেলার তিন মিনিটেই ব্রাজিলের হার্টবিটে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। বল ব্রাজিলের জালে পাঠায়। তবে সেটা অফসাইডের কারণে বাতিলও হয়ে যায়। কিছু সময় পর অবশ্য সুযোগ পায় ব্রাজিল। কিন্তু ভাগ্য বিপর্যয় বুঝি এভাবেই হয়! ব্রাজিলের ইতিহাসে এটা কলঙ্কও বটে। ১৪ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন ব্রুনো গিমারাইস। টাইব্রেকার ব্যতিত ৪০ বছরে প্রথম ব্রাজিলিয়ান কোনো খেলোয়াড় হিসেবে তিনি পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হলেন। পরে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সুযোগ পেলেও তাকে রোখেন নরওয়ের গোলকিপার। প্রথমার্ধ থেকে কেউই গোল পেল না। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই খেলোয়াড় পরিবর্তন করে। আনচেলত্তি ভেবেছিলেন, হয়তো নেইমার উদ্ধার করবেন। তাকে মাঠেও নামালেন। কিন্তু হায়! অঘটন এভাবেই ঘটে। ফুটবল তো এমনই এক খেলা। নেইমার গোল নয়, উল্টো পেলেন হলুদ কার্ড। যদিও পেনাল্টি থেকে গোল করেছেন শেষমেশ। কিন্তু ততক্ষণে খেলার যে ইতি ঘটে যায়। রেফারি ঘড়ির দিকে তাকচ্ছেন বারবার। ফলাফল ২-১। হালান্দম্যাজিকে উড়ে গেল ব্রাজিল। হালান্দ এই আসরে ৭ গোল করে মেসি, এমবাপ্পের কাফেলায় যোগ দিলেন। প্রতিদিন ছয় হাজার ক্যালরি নেয়া ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন হালান্দের গোল তাকিয়ে দেখা ছাড়া ব্রাজিলের আর কিইবা করার ছিল! ম্যাচের শেষ মুহূর্তে দূরপাল্লার শটে হালান্দ তার দ্বিতীয় যে গোলটি করলেন তা অসাধারণ, বিস্ময় জাগানিয়া। তারও আগে ৭৯ মিনিটে হালান্দের হেড থেকে যাওয়া বল অ্যালিসনকে অসহায় করে তোলে। হালান্দের এটিই প্রথম বিশ্বকাপ। হালান্দ এই ম্যাচে যে পারফরম্যান্স দেখালেন তাতে আবারও বলতে দ্বিধা থাকে না- তিনি এক নিয়ন্ত্রণহীন দানব। যাকে থামানোর কোনো সূত্র আধুনিক ফুটবলে নেই। ফুটবলের সিংহাসন দখল করা চাট্টিখানি কথা নয়। আর দখলের সেই লড়াইটাই করে যাচ্ছেন এই গ্ল্যাডিয়েটর। যার কিছু অংশ রচিত হলো বিশ্ব ফুটবলমঞ্চের এই লড়াইয়ে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন