ফুল-টাইম: ব্রাজিল ১-২ নরওয়ে
ইতিহাস গড়ল নরওয়ে! পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে চলে গেল তারা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তায় আর্লিং হালান্দের জোড়া গোল নরওয়েকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিলো।
প্রথমার্ধে ব্রুনো গিমারায়েসের পেনাল্টি রুখে দেয়া নরওয়েজিয়ান গোলকিপার অরজান নিল্যান্ড ম্যাচের শেষদিকেও ছিলেন প্রাচীর হয়ে। নিজের দলের ডিফেন্ডার মাতিয়াস আয়ারের আত্মঘাতী হতে যাওয়া একটি বল গোললাইন থেকে অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ফিরিয়ে দেন তিনি। একদম শেষ মুহূর্তে নেইমার পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্রাজিলের ব্যবধান কমালেও, সমতায় ফেরার আর কোনো সময় পায়নি সেলেসাওরা।
৯০+১০ মিনিট: ব্রাজিল ১-২ নরওয়ে
বিশ্বকাপের মঞ্চে সম্ভবত নিজের শেষ কিকে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কমালেন নেইমার। নিখুঁত এক শটে পোস্টের ডান দিকের নিচের কোণ দিয়ে বল জালে জড়ান তিনি।
৯০ মিনিট: ব্রাজিল ০-২ নরওয়ে
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে দূরপাল্লার শটে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলেন আর্লিং হালান্দ। বক্সের বাইরে থেকে মাটি কামড়ানো এক নিচু শটে বল পোস্টের একদম কোণ দিয়ে জালে জড়ান তিনি। এটি চলতি বিশ্বকাপে হালান্দের সপ্তম গোল। এই অবিশ্বাস্য গোলের সঙ্গে ব্রাজিলকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয়ার একদম শেষ প্রান্তে চলে এসেছে নরওয়ে। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার অপেক্ষায় তারা।
৭৯ মিনিট: ব্রাজিল ০-১ নরওয়ে
পুরো ম্যাচ জুড়ে আর্লিং হালান্দকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, বলের ছোঁয়াও পেয়েছেন খুব কম। কিন্তু বড় ম্যাচের খেলোয়াড়রা ঠিক এই কাজটাই করেন! বাঁ দিক থেকে শিয়েল্ডেরুপের ভাসানো চমৎকার ক্রস বক্সে আসতেই শূন্যে লাফিয়ে ওঠেন হালান্ড। এরপর বুলেটের গতিতে এক দুর্দান্ত হেডে বল ব্রাজিলের জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। অ্যালিসনের কিছুই করার ছিল না। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নরওয়ে!
৬০ মিনিট: ব্রাজিল ০-০ নরওয়ে
মাঠে নেমেই তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলেছিলেন এনড্রিক। কিন্তু অল্পের জন্য গোল পেলেন না! ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের আউটসাইড বুট দিয়ে বাড়ানো চমৎকার এক পাস থেকে নরওয়ের রক্ষণভাগ ভেঙে একদম ফাঁকায় বল পেয়ে যান এই তরুণ স্ট্রাইকার। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। কিন্তু তার নেয়া শটটি পোস্টের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। নিশ্চিত গোল করার মতো সুযোগ হাতছাড়া করলেন এই টিনেজার।
হাফ-টাইম: ব্রাজিল ০-০ নরওয়ে
মেটলাইফ স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধের চরম উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে গোলশূন্য বিরতিতে গেল দুই দল। প্রথমার্ধের চিত্র অনুযায়ী নরওয়েই বেশি স্বস্তিতে থাকবে। মাতিয়াস আয়ার বক্সে কুনহাকে ফাউল করায় ব্রাজিল পেনাল্টি পায়। তবে গিমারায়েসের দুর্বল শটটি দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন গোলকিপার নিল্যান্ড। উল্লেখ্য, বিশ্বকাপের মঞ্চে দীর্ঘ ৪০ বছর পর এই প্রথম কোনো পেনাল্টি মিস করলো সেলেসাওরা!
এর আগে ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে সরলথের কাট-ব্যাক থেকে বার্গ বল জালে জড়ালে নরওয়ে ভেবেছিল তারা এগিয়ে গেছে। কিন্তু অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। দুই দলের দুই তারকা ওডেগার্ড ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দারুণ দুটি প্রচেষ্টাও রুখে দিয়েছেন যথাক্রমে অ্যালিসন ও নিল্যান্ড।
৪৫+৪ মিনিট: ব্রাজিল ০-০ নরওয়ে
মার্তিনেল্লির মিস! প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এবার আক্রমণের পালা ছিল ব্রাজিলের। বক্সের বাইরে থেকে ব্রুনো গিমারায়েসের নেয়া একটি জোরালো শট ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে ফিরে আসে। এরপর ফাঁকা জায়গায় দৌড়ে আসা মার্তিনেল্লিকে লক্ষ্য করে দারুণ একটি বাঁকানো ক্রস বাড়ানো হয়। তবে বলের গতি বেশি থাকায় তার নাগাল পাননি আর্সেনাল উইঙ্গার।
২৮ মিনিট: ব্রাজিল ০-০ নরওয়ে
ম্যাচে হাইড্রেশন ব্রেক দেয়া হয়েছে। মাঠের ভ্যাপসা ও গুমোট গরমে ফুটবলাররা ইতিমধ্যেই বেশ ভালোই ঘেমেছেন। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে গত ৪০ বছরে প্রথম পেনাল্টি মিস করেছেন গিমায়ায়েস (পেনাল্ট শুটআউট বাদে)।
১৪ মিনিট: ব্রাজিল ০-০ নরওয়ে
ব্রুনো গিমারায়েসের দুর্বল পেনাল্টি শট রুখে দিলেন অরজান নিল্যান্ড! শট নেয়ার জন্য দৌড়ানোর সময় গিমারায়েস কিছুটা থমকে গিয়ে পোস্টের ডান দিকে মারেন। কিন্তু তার মনস্তাত্ত্বিক চাল ধরে ফেলেন নিল্যান্ড। তিনিও একই দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি চমৎকারভাবে ফিরিয়ে দেন।
৩ মিনিট: নরওয়ে ০-০ ব্রাজিল
ব্রাজিলিয়ান রক্ষণভাগকে চমকে দিয়ে ম্যাচ শুরু হতে না হতেই বল জালে জড়িয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিল নরওয়ে! তবে সেলেসাওদের ভাগ্য ভালো, বার্গের সেই ফিনিশিংটি লাইন্সম্যানের নিখুঁত অফসাইডের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়ে যায়।
কিক অফ
শুরু মাঠের লড়াই।
হালান্দকে রুখতে ব্রাজিলের ‘আঠার মতো’ ডিফেন্স, একাদশে মার্তিনেল্লি
বিশ্বজয়ের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আজ মাঠে নামছে ব্রাজিল। ফুটবল বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ শেষ ১৬-র ম্যাচে সেলেসাওদের প্রতিপক্ষ টুর্নামেন্টের ‘ডার্ক হর্স’ নরওয়ে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায়।
আজ ইতিহাস কিন্তু ব্রাজিলের পক্ষে কথা বলছে না। নরওয়ের বিপক্ষে আগের চার দেখায় কখনই জিততে পারেনি সেলেসাওরা (২ হার, ২ ড্র)। এমনকি ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে এই নরওয়ের কাছেই ২-১ ব্যবধানে হেরে যায় ব্রাজিল। নরওয়ে কোচ স্তালে সোলবাকেন অবশ্য অতীত ভুলে বর্তমান ম্যাচেই মনোযোগ দিচ্ছেন। যদিও ব্রাজিলকে ফেবারিট মানছেন তিনি।
ম্যাচের মূল আকর্ষণ হতে যাচ্ছে নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আর্লিং হালান্দ ও ব্রাজিলের রক্ষণভাগের দ্বৈরথ। চলতি বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচে ৫ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আছেন হালান্দ। তাকে বোতলবন্দি করার গুরুদায়িত্ব থাকবে মারকুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের জমাট সেন্ট্রাল ডিফেন্সের ওপর। ব্রাজিল মিডফিল্ডার ব্রুনো গিমারায়েস জানিয়েছেন, হালান্দকে ফাঁকা জায়গা না দিতে সবসময় একজন ডিফেন্ডার তার গায়ে ‘আঠা’র মতো লেগে থাকবে।
ব্রাজিল শিবিরে ইনজুরি নিয়ে স্বস্তি-অস্বস্তি দুই-ই আছে। ইনজুরির কারণে মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে পাচ্ছেন না কোচ কার্লো আনচেলোত্তি। তবে সুখবর হলো, হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে দলে ফিরছেন ফরোয়ার্ড রাফিনহা। শুরুর একাদশে না থাকলেও বেঞ্চ থেকে অবদান রাখতে প্রস্তুত তিনি। আজ যে দলই জিতবে, কোয়ার্টার ফাইনালে তাদের খেলতে হবে ইংল্যান্ড বা মেক্সিকোর বিপক্ষে।
ইতিমধ্যে একাদশ ঘোষণা করেছে দুদল। ইনজুরির কারণে মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতাকে হারালেও, ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছেন গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি। গত ম্যাচে জাপানের বিপক্ষে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করা মার্তিনেল্লি আজ সরাসরি জায়গা করে নিয়েছেন শুরুর একাদশে। তবে হ্যামস্ট্রিং চোট কাটিয়ে ফরোয়ার্ড রাফিনহা দলে ফিরলেও আজ তাকে থাকতে হচ্ছে বেঞ্চেই। অন্যদিকে নরওয়ে শিবিরেও এসেছে এক বদল। উরুর চোট কাটিয়ে রাইট-ব্যাকে মার্কাস পেডারসেনের জায়গায় ফিরেছেন জুলিয়ান রাইয়ারসন। ওডেগার্ড-হালান্দের নিয়ে পূর্ণ শক্তির আক্রমণভাগ নিয়েই মাঠে নামছে নরওয়ে।
ব্রাজিল একাদশ: অ্যালিসন (গোলকিপার), ডগলাস সান্তোস, গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েস, মার্কিনহোস, দানিলো, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি, ক্যাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস, রায়ান, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মাথেউস কুনহা।
নরওয়ে একাদশ: অরজান ন্যালান্ড (গোলকিপার), ডেভিড মোলার উলফ, টরবিয়র্ন হেগেম, ক্রিস্টোফার আয়ের, জুলিয়ান রাইয়ারসন, প্যাট্রিক বার্গ, স্যান্ডার বার্গ, মার্টিন ওডেগার্ড, অ্যান্টোনিও নুসা, আর্লিং হালান্দ, আলেকজান্ডার সরলথ।
