নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়

নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়

ফন্ট সাইজ:

জনগণ নিজেদের যাতে সরকারপ্রধান থেকে বিচ্ছিন্ন মনে না করে সেভাবে নিরাপত্তা কৌশল বিন্যাস করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নিরাপত্তার কৌশল যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে
ঠেলে না দেয়। গতকাল ঢাকা সেনানিবাসে প্রেসিডেন্ট গার্ডস রেজিমেন্টের (পিজিআর) সদর দপ্তরে ৫১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শুরুতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী পিজিআর সদর দপ্তরে একটি গাছের চারা রোপণ এবং পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এর আগে এসএসএফ’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আমার একটি উপলব্ধির কথা শেয়ার করেছিলাম, যেহেতু আপনারাও রাষ্ট্র এবং সরকারপ্রধানের নিরাপত্তায় নিয়োজিত- সেহেতু আপনাদের জন্যও কথাটি প্রযোজ্য বলে আমি মনে করি। সেটি হলো, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায়শই জনসভা এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হয়। ফলে সেই সকল অনুষ্ঠানে আপনাদেরকেও দায়িত্ব পালন করতে হয়।

এই ধরনের অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবশ্যই কিছুটা জটিলতাপূর্ণ। এসব কর্মসূচি পালনের সময় একদিকে সরকারপ্রধানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা অপরদিকে নাগরিক জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত রাখা, এই দু’টির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করেই আপনাদের নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন করতে হয়।

তিনি বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার উপর আমার আস্থা এবং নির্ভরতা বজায় রাখতে চাই। নিরাপত্তা কৌশল যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানাই।

তারেক রহমান বলেন, পিজিআর’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমার জীবনের সবচেয়ে শোকাবহ এবং হৃদয়বিদারক ঘটনা, আমার পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদতের কথা মনে পড়ছে। ১৯৮১ সালের ৩০শে মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদতবরণের সময় কর্তব্য পালনরত পিজিআর’র কয়েকজন সদস্যও শহীদ হয়েছিলেন। আজকের এই বিশেষ দিনে আমি পিজিআর’র সেই সকল শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি। আল্লাহ’র দরবারে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।

আরও পড়ুন:
কাঁদছে ইরান

সরকারপ্রধান বলেন, মহামান্য প্রেসিডেন্ট এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তায় ১৯৭৫ সালের এই দিনে প্রথমে ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’ নামে একটি নতুন রেজিমেন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে, তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৯শে সেপ্টেম্বর ‘রাষ্ট্রপতির দেহরক্ষী ইউনিট’কে “প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট” হিসেবে অভিহিত করেন। এই নতুন নামকরণ রেজিমেন্টের কার্যক্রমকে আরও আত্মপ্রত্যয়ী এবং গতিশীল করতে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট-পিজিআর প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান একটি অবিস্মরণীয় এবং অনুপ্রেণামূলক নাম।

তিনি বলেন, আমার বাবা-মা দু’জনই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মেয়াদে আল্লাহর রহমতে রাষ্ট্র এবং সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় সঙ্গতকারণেই পিজিআর’র কার্যক্রমের সঙ্গে আমি কিশোর বেলা থেকেই পরিচিত। পিজিআর’র কাজটি অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। কারণ রাষ্ট্র ঘোষিত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দায়িত্ব পালন করাও আপনাদের অন্যতম কর্তব্য। এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আপনাদেরকে নানা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। এইসব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আপনাদের বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ এবং কর্তব্যপরায়ণতার বৈশিষ্ট্য আপনাদেরকে নিঃসন্দেহে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে পরিচিত করেছে।

সুশৃঙ্খলতার স্বীকৃতিস্বরূপ পিজিআর চলতি বছর ‘ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড’ পুরস্কারের জন্য মনোনিত হওয়ায় বাহিনীর সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, একটি দেশের সশস্ত্রবাহিনী দেশ এবং জনগণের সাহস এবং গৌরবের প্রতীক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্রবাহিনীর সাহসী ভূমিকা সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন এবং অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে ফেলেছে।

যেকোনো বাহিনীর সামনে প্রচলিত চ্যালেঞ্জের বাইরেও বর্তমানে আর্থ-সামাজিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাইবার যুদ্ধ, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার, ড্রোন যুদ্ধ কিংবা তথ্যযুদ্ধ- এসব নতুন নতুন ক্ষেত্রগুলো উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এইসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শুধুমাত্র পিজিআর’ই নয় প্রতিটি বাহিনীকেই আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে পিজিআর’রও পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, সশস্ত্রবাহিনীর পাশাপাশি পিজিআর কিংবা এসএসএফ’র মতো সফিস্টিকেটেড বাহিনীগুলোকেও আরও আধুনিকায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এ বিষয়ে যথানিয়মে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, সশস্ত্রবাহিনী যদি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা অনুসরণ এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখেন, তাহলে দেশের সার্বভৌমত্ব আর কখনোই হুমকির সম্মুখীন হবে না ইনশাআল্লাহ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করবো, পিজিআর’র মতো বিশেষায়িত বাহিনীর সর্বোচ্চ সফলতার জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস-সততা-বিশ্বস্ততা-সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব-নিয়মানুবর্তিতা এবং সর্বোপরি ‘চেইন অফ কমান্ড’ অনুসরণ এই বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য। পিজিআর’র গৌরবময় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমি আপনাদের সকলের সুস্বাস্থ্য, মঙ্গল ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) একেএম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন, ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনীর প্রধান, পিজিআর’র কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম আরিফুল আলমসহ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবসে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী
জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেন বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা।

তিনি বলেন, ‘উন্নত পল্লী সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেছেন। ১০ টাকা মূল্যমানের স্মারক ডাক টিকিটের সঙ্গে একটি উদ্বোধনী খাম ও পাঁচ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটা কার্ডও প্রকাশ করা হয়েছে। স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচনের সময়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও সচিব শহীদুল হাসান, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব বিলকিস জাহান রিমি উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, রোববার জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ প্রতি বছর বিশেষ স্মারক ডাক টিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটাকার্ড প্রকাশ করে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন