নামেই ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ফাংশনাল না। বহির্বিশ্বে কেবলমাত্র বিমানই ফ্লাইট অপারেট করে। বিমান চললে প্রবাসী খুশি আর বন্ধ হলে বাড়ে ক্ষোভ। যেটি ঘটেছিলও সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে। ৬ মাস আগে অন্তর্বর্তী সরকারের এক আদেশে ওই রুটের ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেটি চালু করেছে। চার মাস পর গতকাল সিলেটে আসে ম্যানচেস্টার ফ্লাইট। এতে উপস্থিত ছিলেন সরকারের দুই মন্ত্রী ও এক উপদেষ্টা। বৃটেনের ম্যানচেস্টার থেকে আসা ওই ফ্লাইটের যাত্রীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। ঘোষণা দেয়া হয়, ওই রুটে আর ফ্লাইট বন্ধ হবে না। নিরবচ্ছিন্নভাবে চলবে। এতেই খুশি প্রবাসীরা। নর্থ ইংল্যান্ডের ১০ লাখ প্রবাসীর ভোগান্তি ছাড়া দেশে আসার একমাত্র রুট এটি। ২০১২ সাল থেকে দফায় দফায় বন্ধ হয়েছে।
আন্দোলনের মাধ্যমে খুলেছে। এবারো আন্দোলন হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর আর প্রবাসীদের আন্দোলন করতে হয়নি। বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা ম্যানচেস্টার ফ্লাইটের যাত্রীদের বরণ করতে শনিবারই সিলেটে আসেন। গতকাল সকালেই চলে আসেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির। ফ্লাইট চালু নিয়ে যাত্রীদের মতো মন্ত্রীদের মুখেও উচ্ছ্বাসের সুর। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির জানিয়েছেন- ওই রুটে ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার পর চালুর বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছিলাম। একটি বৈঠকে এ প্রস্তাব উপস্থাপনের পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই এতে আন্তরিকতা দেখান। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এ রুটে ফের ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন- বিগত অন্তর্বর্তী সরকার সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট পুরোপুরি বন্ধ করতে চেয়েছিল। আমরা তখন বলেছিলাম নির্বাচিত সরকার এসে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। বিএনপি সরকার গঠন করে এ ব্যাপারে আন্তরিকতা দেখিয়েছে। আগামীতে এ ফ্লাইট কন্টিনিউ থাকবে বলে জানান তিনি। এদিকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা বেগম রিতা জানিয়েছেন- প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। আমরা যাত্রীদের সুবিধার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। সিলেট যেহেতু প্রবাসী অধ্যুষিত। সিলেটের মানুষের দাবির বিষয়টি বর্তমান সরকার বুঝে। তিনি বলেন- সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট চালু করা সিলেটের মানুষের দাবি ছিল। এটি আমরা করেছি। সিলেটের বিমানবন্দর সহ সার্বিক উন্নয়নে আমরা টিমওয়ার্ক করছি। ভবিষ্যতে এর ফলাফল দেখতে পারবেন।
ঢাকা-সিলেট রুটে বিমান ভাড়া খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি। সিলেট-১ আসনের এমপি ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানমকে পাশে রেখে সিলেটের কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন- সিলেট-কক্সবাজার রুটে বিমানের ফ্লাইট চালু করতে বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে এ নিয়ে কথা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আগামীতে আমরা সিলেট-কক্সবাজার রুটে বিমানের ফ্লাইট দেখতে পারবো বলে জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রীর এ কথায় সায় দেন বিমানমন্ত্রীও। এ ব্যাপারে সরকার আন্তরিক রয়েছে বলে জানান তিনি। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান- সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এখনো ফাংশনাল বিমানবন্দর নয়। এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে এ অঞ্চলের হাব হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
এখান থেকে পার্শ্ববর্তী ভারতের গৌহাটি সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রুটে ফ্লাইট চালু করা যায়। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট বাড়ালে ও কার্যক্রমে গতি আনলে গোটা অঞ্চলের মানুষ এ বিমানবন্দরকে ব্যবহার করতে পারে। সেজন্য মন্ত্রী বিমানমন্ত্রীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। সিলেটের কৃষিপণ্যের বিশাল মার্কেট রয়েছে বৃটেনে। সেখানে থাকা সিলেটি প্রবাসীরা এ অঞ্চলের পণ্য বেশি পছন্দ করেন। এজন্য বাধা রয়েছে কাস্টমসের প্যাকেজিং সিস্টেম। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন- সেই বাধা আর থাকছে না।
প্যাকেজিং সিস্টেম নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এটি চালু হলে বৃটেনে সিলেটের কৃষিপণ্যের বাজার সৃষ্টি হবে। এ খাতটি হতে পারে একটি সম্ভাবনার খাত। এদিকে গতকাল সরাসরি ফ্লাইটে ম্যানচেস্টার থেকে সিলেটে আসেন এনআরবি সোসাইটি ইউকের অন্যতম পরিচালক এম জুনেদ আহমদ। তিনি বলেন- রোববারের ফ্লাইটে সিলেট এসেছেন ২৬৮ জন যাত্রী। এর মধ্যে মহিলা ও বয়স্ক যাত্রীর সংখ্যা বেশি। নিরবচ্ছিন্নভাবে ফ্লাইট চালু থাকলে যাত্রী সংখ্যা বাড়বে ছাড়া কমবে না বলে জানান তিনি।
