বাংলা একাডেমির সভাপতি, প্রাবন্ধিক, গবেষক অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি
ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার দুপুরে একটি রেস্তরাঁয় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। আবুল কাসেম ফজলুল হকের জন্ম ১৯৪০ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায়। ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং আনন্দমোহন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
১৯৭২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ২০১১ সালের ৩০শে জুন তিনি অবসরে যান। সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হিসেবে ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত একই বিভাগে কর্মরত ছিলেন। দুই বছর (২০২১-২৩) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে আহমদ শরীফ চেয়ার পদে নিয়োজিত ছিলেন।
ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন আন্দোলনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। কর্মজীবনে আসার পর তিনি লেখালেখির মাধ্যমে নিজের চিন্তাধারা বিকাশে মনোনিবেশ করেন।
তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে আছে-বাংলাদেশের সংগ্রামের ইতিহাস নিয়ে ‘মুক্তিসংগ্রাম’; ‘কালের যাত্রার ধ্বনি’; ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’-এর মতো বই যেমন আছে, তেমনি আছে রাজনীতি, রাষ্ট্র ও সমাজ চিন্তার ফসল ‘নৈতিকতা: শ্রেয়োনীতি ও দুর্নীতি’; ‘যুগসংক্রান্তি ও নীতিজিজ্ঞাসা’, ‘মাও সেতুঙের জ্ঞানতত্ত্ব’; ‘রাজনীতি ও দর্শন’ ‘আশা-আকাঙ্ক্ষার সমর্থনে’; ‘বাঙলাদেশের রাজনীতিতে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা’; ‘অবক্ষয় ও উত্তরণ’; ‘রাজনীতি ও সংস্কৃতি: সম্ভাবনার নবদিগন্ত’; ‘রাষ্ট্রচিন্তায় বাংলাদেশ’ ‘উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণি ও বাঙলা সাহিত্য’; ‘বাঙলাদেশের প্রবন্ধ সাহিত্য’, ‘সাহিত্যচিন্তা’; ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতি প্রসঙ্গে’; ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’; ‘আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা’ উল্লেখযোগ্য।
আশির দশক থেকে লোকায়ত নামে একটি মননশীল পত্রিকার সম্পাদনা করে আসছিলেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। আহমদ শরীফ প্রতিষ্ঠিত স্বদেশ চিন্তা সংঘের সভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করেন। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন তিনি। তার দুই সন্তানের মধ্যে শুচিতা শরমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপন জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। শাহবাগে প্রকাশনা সংস্থাটির কার্যালয়ে ২০১৫ সালের ৩১শে অক্টোবর তাকে হত্যা করে উগ্রবাদীরা। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আবুল কাসেম ফজলুল হককে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে তার স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুর খবর শোনে তার পল্লবীর বাসায় ছুটে যান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি মরহুমের স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানান। বিএনপি’র মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আবুল কাসেম ফজলুল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন বলে বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শাইরুল কবির খান জানিয়েছেন।
