আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং অভিযোগটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে সংগঠন হিসেবে দলের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এর আওতায়ও এ বিষয়ে পৃথক তদন্তের সুযোগ রয়েছে। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে কোনো আইনি বাধা নেই বলেও মন্তব্য করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফিরে নিজের বিরুদ্ধে হওয়া সাজা ও বিচারাধীন মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়া উচিত। রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেই কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের বিরুদ্ধে বিচার পরিচালনা এবং প্রয়োজন হলে নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে। এসব আইনের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণয়ন বা সংশোধন করা হয়েছিল। ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে ২০১৩ সালের সংশোধনের মাধ্যমে ‘সংগঠন’ শব্দটি যুক্ত করা হয়, ফলে ব্যক্তি ছাড়াও কোনো সংগঠনকে বিচারের আওতায় আনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এও কোনো সংগঠন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রয়েছে। আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০২৪ সালের ১লা আগস্ট সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ধারার অধীনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। একই আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কোনো সংগঠন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে সেটিকে নিষিদ্ধ করতে পারে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ধারার আওতায় নিষিদ্ধ রয়েছে। তবে দলটিকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আদালতের রায় এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, তদন্ত সংস্থা যদি সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তি খুঁজে পায় এবং তদন্ত প্রতিবেদন তার দপ্তরে জমা দেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে। দীর্ঘ প্রায় সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগ দল হিসেবে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল এবং ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ নীতির আওতায় দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধেও আইনি দায় নির্ধারণের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ, রাজনৈতিক সহিংসতা, গণতন্ত্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় সংগঠন ও ব্যক্তি উভয়পর্যায়ে দায়ের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য করা সম্ভব নয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রণীত আইনগুলোর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ২০০৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইন এবং ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের সংশোধনের মাধ্যমে সংগঠনের বিচার ও নিষিদ্ধ করার আইনি ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে সেই আইনগুলোর আওতাতেই বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
