ফুটবলাররা যে কারণে মাঠে মাস্ক পরেন

ফুটবলাররা যে কারণে মাঠে মাস্ক পরেন

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের মাঠে মাস্ক পরা মুখ এখন নিয়মিত দৃশ্য। ইংল্যান্ডের জেড স্পেন্স, আলজেরিয়ার লুকা জিদান থেকে শুরু করে উরুগুয়ের সেবাস্তিয়ান কাসেরেস- তাদের সবাইকে দেখা গেছে মুখে মাস্ক পরে খেলতে। কিন্তু এই মাস্ক আসলে কী কাজ করে, আর কীভাবে তৈরি হয়? মুখের হাড় ভাঙার মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় নাক, গালের হাড় ও চোয়ালের চোট। এমন চোট পেলে বিশ্রামই সবচেয়ে ভালো সমাধান। কিন্তু বড় টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের হাতে সময় থাকে না। তখনই আসে মাস্কের ভূমিকা। মাস্ক আঘাত সারিয়ে তোলে না। এটি শুধু একটি ঢাল- নতুন কোনো আঘাত লাগলে তার শক্তি ছড়িয়ে দেয় মাথার শক্ত অংশে, যাতে সদ্য সারতে থাকা জায়গায় সরাসরি চাপ না পড়ে। জার্মান বুন্ডেসলিগার চিকিৎসক আন্দ্রেয়াস এলসনার বলেন, ‘মাস্ক কোনো ফ্যাশন-বিষয় নয়, এটি সরাসরি সুরক্ষার প্রশ্ন।’ ফুটবলারদের জন্য একটি মাস্ক তৈরির পেছনে কাজ করে পুরো একটি দল।

প্রথমে মুখমণ্ডল-বিশেষজ্ঞ সার্জন ঠিক করেন খেলোয়াড় মাঠে ফিরতে পারবেন কি না, আর কোন জায়গাটা সুরক্ষা দরকার। তারপর অপটিক্যাল স্ক্যানার দিয়ে নেয়া হয় মুখের নিখুঁত থ্রিডি স্ক্যান। মাদ্রিদের একটি হাসপাতালের মুখমণ্ডল সার্জারি বিভাগের প্রধান মানুয়েল চামোরো বলেন, ‘ফোলাভাব, দৃষ্টি, শ্বাস-প্রশ্বাস আর কথা বলার সুযোগ সবকিছু মাথায় রেখে স্ক্যানের ভিত্তিতে এ মাস্ক ডিজাইন করা হয়।’ সাধারণত কার্বন ফাইবারের মতো হালকা ও মজবুত উপাদানে তৈরি হয় এই মাস্ক। ওপরে থাকে রাবারের প্রলেপ। যাতে ঘষা না লাগে চামড়ায়।

স্ক্যান থেকে বানানো হয় বাস্তব আকৃতির একটি মডেল। তারপর থ্রিডি প্রিন্টার দিয়ে মাস্ক তৈরি হয় ৪৮ ঘণ্টায়। রং করা হয় কালো। কারণ ঘামে অন্য রং উঠে গিয়ে চামড়ায় জ্বালাপোড়া করতে পারে। উয়েফা ও ফিফার নিয়মও বলে, মাঠে পরা যেকোনো চিকিৎসা সরঞ্জাম হতে হবে একরঙা, তাতে থাকতে পারবে না কোনো ব্র্যান্ড বা দলের লোগো। মাস্ক পড়ে খেলার সবচেয়ে চর্চিত উদাহরণ কিলিয়ান এমবাপ্পে। ২০২৪ ইউরোর প্রথম ম্যাচে নাক ভেঙে যায় তার। অস্ত্রোপচার লাগেনি। কিন্তু হাড় জোড়া লাগতে সময় লাগত ছয় সপ্তাহ।

এমবাপের হাতে সেই সময় ছিল না। চশমা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ওকলি তখন এগিয়ে আসে। তাদের কাছে আগে থেকেই ছিল এমবাপের থ্রিডি ফেস স্ক্যান। ২০২২ সালে কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর হয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ের স্ক্যান কোম্পানিটির সংগ্রহে ছিল। সেটি দিয়ে বানানো মাস্ক পড়ে ইউরোতে চার ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি। এটি পড়ায় সীমিত দৃষ্টি আর চোখে ঘাম আসার সমস্যায় ভুগতেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফরাসি পত্রিকা লে পারিজিয়েনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সময় ফিরে পেলে তিনি মাস্ক পরে খেলার সিদ্ধান্তটাই বদলে দিতেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন