২০১৪ সালের সেই রাতটা কি ভুলতে পেরেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফুটবল সমর্থকরা? ব্রাজিল বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভে প্রায় একাই লড়েছিলেন টিম হাওয়ার্ড। তবু অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলে হেরে শেষ হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্বপ্ন। বারো বছর পর বিশ্বকাপের একই রাউন্ডে আবারো মুখোমুখি দুই দল। এবার অবশ্য প্রেক্ষাপট ভিন্ন। স্বাগতিক হিসেবে ঘরের মাঠের সমর্থন পাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিজ্ঞ কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে ছন্দে থাকা দলটি কি এবার বদলা নিতে পারবে? সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে কাল সকাল ৬টায় মাঠে নামছে স্বাগতিকরা। আর যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় সার্জিনো ডেস্ট বলেন, ‘আমাদের ওপর দেশবাসীর
বিশ্বাস অনেক বেড়েছে। আমরা যদি বেলজিয়ামকে হারাতে পারি, তাহলে সেই বিশ্বাস আরও বেড়ে যাবে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ।
বেলজিয়াম দারুণ প্রতিপক্ষ, কিন্তু আমরাও জয়ের সুযোগ দেখছি, কারণ এই মুহূর্তে আমরাও দুর্দান্ত একটি দল।’
বেলজিয়ামের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম ম্যাচটি খেলেছিল বিশ্বকাপেই। ১৯৩০ সালের আসরের গ্রুপ পর্বে বেলজিকদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল তারা। এরপর ৬ ম্যাচেই জিতেছে বেলজিয়াম। সবশেষ গত মার্চে প্রীতি ম্যাচে ডি ব্রুইনাদের কাছে ৫-২ গোলে বিধ্বস্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র। আর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র পাচ্ছে না আক্রমণভাগের মূল তারকা ফ্লোরিয়ান বালোগানকে। বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটাচ্ছেন বালোগান। তার অভাব পূরণে পচেত্তিনোর হাতে দুটি বিকল্প রয়েছে- রিকার্ডো পেপি অথবা হাজি রাইট। তবে পেপির খেলার সম্ভবনা বেশি। গ্রুপ পর্বে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ হয়েছিল তার।
অন্যদিকে, শেষ ৩২-এ সেনেগালকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-২ গোলে হারায় বেলজিয়াম। সেই ম্যাচে জেরেমি ডকু ও কেভিন ডি ব্রুইনাকে বদলি করার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নেয় রুডি গার্সিয়ার দল। ডকুর ফর্মহীনতায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গার্সিয়া। গত মৌসুমেও ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে দুর্দান্ত সময় পার করেছেন ডকু। কিন্তু পারিবারিক কারণে হঠাৎ ছন্দপতন। ডকুকে নিয়ে সতীর্থ ডোডি লুকেবাকিও বলেন, ‘তার আরও সমর্থন প্রয়োজন। বাবা হওয়া ও অসুস্থতার কারণে সে পুরো ছন্দে নেই।’
পরিসংখ্যানে এগিয়ে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রকে সমীহ জানাচ্ছেন ডোডি। তিনি বলেন, ‘এখন তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি দল। বিশ্বকাপে সবকিছু আলাদা। এবার তাদের পেছনে থাকবে নিজেদের সমর্থন। ম্যাচটা ৫০-৫০ হবে।’ যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোর একটি কার্যকর উপায় বের করেছেন বেলজিয়াম ডিফেন্ডার ম্যাক্সিক ডি কুইপার। তিনি বলেন, ‘আমাদের শুধু মাঠে সাহস দেখাতে হবে। নিজেদের খেলাটাই খেলতে হবে। ৮০ হাজার দর্শক পক্ষে থাকুক বা না থাকুক।’
রক্ষণভাগের আরেক খেলোয়াড় টিমোথি কাস্তান মনে করেন, ঘরের মাঠের দর্শকরা বরং অস্বস্তিতে ফেলতে পারে যুক্তরাষ্ট্রকে। তিনি বলেন, ‘ তাদের জন্য পরিস্থিতি একটু খারাপ হলেই দর্শকরাও তাদের বিপক্ষে যেতে পারে, তখন চাপটা তাদের ওপরই পড়বে। তাই এটা নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নেই। মাঠে আমরা চারপাশে কী হচ্ছে, সেটা শুনিই না। মাঠে নামলে আমরা যেন নিজেদের একটা জগতেই থাকি।’
