আইবেরিয়ান ডার্বিতে যেকোনো কিছু হতে পারে

আইবেরিয়ান ডার্বিতে যেকোনো কিছু হতে পারে

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর রোমাঞ্চকর মহারণে আজ মুখোমুখি হচ্ছে চারটি দল। ডালাসে লড়বে পর্তুগাল ও স্পেন এবং সিয়াটলে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়াম। এই দুই ব্লকবাস্টার ম্যাচ নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সাল এক কথায় জানিয়েছেন দুটি ম্যাচই দারুণ উপভোগ্য হতে যাচ্ছে। বিশেষ করে দুই প্রতিবেশী দেশের ঐতিহ্যবাহী দ্বৈরথ নিয়ে ফয়সাল বলেন, ‘আইবেরিয়ান ডার্বিতে যেকোনো কিছু হতে পারে কারণ দুই দলের শক্তি ও সামর্থ্যের পার্থক্য অত্যন্ত সামান্য। অন্যদিকে ঘরের মাঠের সুবিধা পাওয়া মার্কিনদের যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচটি হবে সমানে-সমান লড়াই যেখানে গ্যালারির সমর্থন স্বাগতিকদের বাড়তি প্রেরণা যোগাবে।’

স্পেনের নিখুঁত রক্ষণবূহ এবং বল পজিশন ধরে রাখার ক্ষমতা প্রসঙ্গে ফয়সাল বলেন, ‘স্পেন এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত কোনো গোল হজম করেনি যা তাদের ডিফেন্সিভ লাইনের শক্তির প্রমাণ।’ পর্তুগালকে এই ইস্পাতকঠিন ডিফেন্স ভাঙতে হলে মাঝমাঠে হাই-প্রেসিং ফুটবল খেলতে হবে। স্পেনের বল পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করার কৌশলের বিপরীতে পর্তুগিজদের কাউন্টার-অ্যাটাকের জন্য ওত পেতে থাকতে হবে। আক্রমণভাগে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ছন্দে থাকা পর্তুগালের জন্য সবচেয়ে বড় মনস্তাত্ত্বিক অস্ত্র।

ফয়সাল বলেন, ‘রোনালদোর উপস্থিতি স্পেনের সেন্টার-ব্যাকদের সার্বক্ষণিক চাপে রাখবে যা ব্রুনো ফার্নান্দেজের মতো মিডফিল্ডারদের জন্য ফাঁকা জায়গা তৈরি করবে। ম্যাচটিতে মূলত মাঝমাঠ ও আক্রমণের দারুণ দ্বৈরথ প্রাধান্য পাবে।’ ঐতিহাসিক আইবেরিয়ান ডার্বির মুখোমুখি পরিসংখ্যান ও শক্তির লড়াই অনেক পুরানো। সামগ্রিক দ্বৈরথে স্পেনের ১৮টি জয়ের বিপরীতে পর্তুগাল জিতেছে মাত্র ৭টি ম্যাচে এবং ১৬টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তবে সাবেক এই তারকা উয়েফা নেশনস লীগের ফাইনালে পর্তুগিজদের টাইব্রেকার জয়কে তাদের জন্য মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা হিসেবে দেখছেন। ফয়সাল বলেন, ‘গাণিতিক বিশ্লেষণে স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫৫% এবং পর্তুগালের ৪৫% হলেও টাইব্রেকারে ম্যাচ গড়ালে পর্তুগিজ গোলরক্ষক দিওগো কস্তার পেনাল্টি সেভিং দক্ষতা তাদের এগিয়ে রাখবে।’ স্পেনের শক্তির জায়গা হলো দলগত ঐক্য এবং অন্যদিকে পর্তুগালের শক্তির জায়গা বেঞ্চ স্ট্রেন্থ ও কাউন্টার-অ্যাটাকের গতি। মাঠের ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে সামান্য ভুলই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের মধ্যকার ম্যাচটি নিয়ে সিয়াটলে আরেকটি মহা দ্বৈরথ শুরু হতে যাচ্ছে যেখানে স্বাগতিকদের ঘরের মাঠের সমর্থন বিশাল ভূমিকা রাখবে। ফয়সাল স্বাগতিকদের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা দেখছেন ঘরের মাঠে খেলা বলেই। তাদের লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়ামে খেলার সুবিধা নিয়ে ফয়সাল বলেন, ‘গ্যালারির হাজার হাজার সমর্থক যখন নিজের দেশের জন্য চিৎকার করে তখন খেলোয়াড়দের ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়। এটি বেলজিয়ানদের জন্য মাঠের বাইরে আরেকটি বড় প্রতিপক্ষ বা মনস্তাত্ত্বিক চাপ হিসেবে কাজ করবে। এছাড়াও ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের কারণে নির্বাসন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা হলেও তরুণ দলের গতিশীল উইং আক্রমণ বেলজিয়ামের ধীরগতির ডিফেন্সের বিরুদ্ধে দারুণ কার্যকরী হতে পারে।

কেভিন ডি ব্রুইনে এবং রোমেলু লুকাকুর বিশাল অভিজ্ঞতা বেলজিয়ানদের সবচেয়ে বড় ভরসা যা মাঠের কৌশল বদলে দেবে এবং তাদের লক্ষ্য অর্জনে অনেক বেশি সাহায্য করবে।’ এছাড়াও বেলজিয়ামের রক্ষণভাগের নড়বড়ে অবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের গতিশীল ফুটবল দিয়ে ভেঙে দিতে পারে বলে জানান ফয়সাল। তিনি বলেন, ‘বেলজিয়াম দল হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী হলেও যুক্তরাষ্ট্রের তারুণ্য ও গতিশীলতা এই ম্যাচে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের কাউন্টার অ্যাটাক অসাধারণ। ’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন