রোগা ছেলেটিই মরক্কোর রূপকথার নায়ক

রোগা ছেলেটিই মরক্কোর রূপকথার নায়ক

ফন্ট সাইজ:

ক্যাসাব্লাঙ্কার অলিগলিতে ফুটবল খেলে বড় হওয়া এক রোগাটে ছেলে আজ পুরো মরক্কোর গর্ব। আজেদিন ওনাহি। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জোড়া গোল করে কানাডাকে বিদায় করে দিয়েছেন তিনি। এই জয়ে মরক্কো টানা দুই বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা প্রথম আফ্রিকান দেশ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। আগামী
বৃহস্পতিবার বোস্টনের ফক্সবরোতে কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। ২০২২ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হারের শোধ নেয়ার সুযোগ আশরাফ হাকিমি-ওনাহিদের সামনে।

২০০০ সালের ১৯ এপ্রিল ক্যাসাব্লাঙ্কায় জন্ম ওনাহির। ছোটবেলায় শরীর ছিল বেশ হালকা-পাতলা। স্কাউটরা ভাবতেন, ইউরোপের কঠিন ফুটবলে টিকে থাকার শারীরিক সামর্থ্য তার নেই। ১০ বছর বয়সে রাজা ক্যাসাব্লাঙ্কা একাডেমিতে যোগ দিলেও শরীর নিয়ে প্রশ্ন থামেনি। ১৫ বছর বয়সে সুযোগ আসে মরক্কোর বিখ্যাত মোহাম্মদ সিক্স ফুটবল একাডেমিতে। শারীরিক দুর্বলতা ঢাকতে সেখানে তাকে গড়ে তোলা হয় টেকনিক আর ফুটবল বুদ্ধি দিয়ে। ১৮ বছর বয়সে ফ্রান্সে পাড়ি জমান তিনি। যোগ দেন স্ত্রাসবুর্গে। ২০২১ সালে যোগ দেন লীগ ওয়ানের ক্লাব আঞ্জেতে।

কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল যাত্রায় মাঝমাঠ সামলান ওনাহি। স্পেনকে বিদায় করার পর স্প্যানিশ কোচ লুইস এনরিকে সংবাদ সম্মেলনে তার খেলা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বিস্মিত হয়ে বলে উঠেছিলেন, ‘ওহ মাই গড! ৮ নম্বর জার্সি পরা এই ছেলেটি কে? কোথা থেকে এসেছে ও? ও তো দৌড়ানোই থামাচ্ছিল না!’ সেই বিশ্বকাপেই রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের চেনা মুখ হয়ে ওঠেন ওনাহি। তবে বিশ্বকাপের পর ক্লাব ফুটবলে কিছুটা ছন্দ হারান ওনাহি। আঞ্জেতে ফর্ম পড়ে যায়। গ্রিসের পানাথিনাইকোসে লোনে খেলার পর গত বছর অগাস্টে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিতে যোগ দেন স্পেনের ক্লাব জিরোনায়। জিরোনায় এসেই লা লিগায় নিজের প্রথম গোল পান অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের বিরুদ্ধে। শনিবার রাতে হিউস্টন স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোর ম্যাচে কানাডার বিপক্ষে প্রথমার্ধে চাপে ছিল মরক্কো। ২২ মিনিটেই মাঠ ছাড়েন মূল স্ট্রাইকার ইসমাইল সাইবারি।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় সব। ৫০ মিনিটে আশরাফ হাকিমির ফ্রি-কিক থেকে বল পেয়ে বক্সের কাছ থেকে নিচু শটে গোল করেন ওনাহি। ৮২ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের পাস থেকে প্রতি-আক্রমণে দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ কার্যত শেষ করে দেন তিনি। শেষ মুহূর্তে আরও এক গোল যোগ করেন সুফিয়ান রাহিমি। ৩-০ গোলে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে পা দেয় মরক্কো। এই জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জোড়া গোল করা প্রথম মরক্কান ফুটবলার হয়ে গেছেন ওনাহি। এর আগে বিশ্বকাপে জোড়া গোলের কীর্তি ছিল মাত্র দুজন মরক্কান খেলোয়াড়ের। ১৯৮৬ সালে আবদেররাজাক খাইরি ও ১৯৯৮ সালে সালাহেদ্দিন বাসির। ওনাহি হলেন তৃতীয় জন। মরক্কোর হয়ে মোট ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন আজোদিন ওনাহি। দেশের হয়ে করেছেন ৪ গোল এবং ৭ অ্যাসিস্ট।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন