বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারায় ফ্রান্স। আর প্যারাগুয়ের খেলার ধরন নিয়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। বৃটিশ গণমাধ্যম বিবিসি স্পোট এর রিপোর্টে প্যারাগুয়ের ‘ডার্ক আর্টস’ ফুটবল কৌশলের কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক ফুটবলাররা। ফিলাডেলফিয়ার তীব্র গরমে খেলা হয়েছে ধীর গতিতে। প্রথমার্ধে কোনো দলই ঠিকমতো লক্ষ্যে শট নিতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধের ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবারের বিশ্বকাপে এটি তার সপ্তম গোল। আর এ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে লিওনেল মেসিকে ছুঁয়ে ফেলেছেন এমবাপ্পে। ম্যাচ শেষে ফ্রান্স পেয়ে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট। বৃহস্পতিবার বোস্টনে তাদের প্রতিপক্ষ মরক্কো।
পুরো ম্যাচে ‘ডার্ক আর্টস’ কৌশলে ফুটবল খেলেও প্যারাগুয়ের কোনো খেলোয়াড় কার্ড দেখেননি। তারা ফাউল করে ১৩টি। অন্যদিকে ১১ ফাউল করে তিন হলুদ কার্ড দেখেছে ফ্রান্স।
প্রথমার্ধে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার আন্দ্রেস কুবাস ফরাসি খেলোয়াড় এড্রিয়ান রাবিওকে বিপজ্জনক ট্যাকল করেন। ফাউলটি বেশ
গুরুতর হলেও রেফারি কুবাসকে হলুদ কার্ড দেখাননি। প্রথমার্ধের শেষের দিকে কিলিয়ান এমবাপ্পেকে করা একটি ফাউলের পর মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে উসমান দেম্বেলে বল ধরে রাখলে প্যারাগুয়ের ম্যাথিয়াস গালারজা ফরাসি ডিফেন্ডার জুলস কুন্দের মুখে হাত দিয়ে বসেন এবং ধাক্কা দেন। রেফারি এই অফ-দ্য-বল ঘটনাটি খেয়াল না করায় গালারজা শাস্তি থেকে বেঁচে যান।
৬৭ মিনিটে দেজিরে দুয়েকে ডি-বক্সের ভেতর ফাউল করা হলে ভিএআর পরীক্ষার পর ফ্রান্সের পক্ষে
পেনাল্টি দেয়া হয়। কিলিয়ান এমবাপ্পে যখন পেনাল্টি শট নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার গুস্তাভো ভেলাজকুয়েজ লুকিয়ে পেনাল্টি স্পটের মাটি বুট দিয়ে ঘষে দেন। উসমান দেম্বেলের চোখে ধরা পড়লে তিনি ভেলাজকুয়েজকে সরিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে প্যারাগুয়ের বদলি ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল আভালোস ফরাসি ডিফেন্ডার দায়ত উপামেকানোর পাঁজরে কনুই বসিয়ে দেন। ব্যথায় উপামেকানো লুটিয়ে পড়লেও রেফারি ইলগিজ তানতাশেভ প্যারাগুয়ের আভালোসকে কোনো কার্ড দেখাননি।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরও ছিল উত্তেজনা। গুস্তাভো ভেলাজকুয়েজ ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের মুখোমুখি হওয়ার চেষ্টা করলে সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। বিশৃঙ্খলার উত্তাপ ছড়ায় ডাগআউটে। প্যারাগুয়ের বেঞ্চের ফুটবলাররা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সেই অভিযোগ জানিয়েছেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। তিনি বলেন, ‘ প্রতিপক্ষ বেঞ্চ থেকে কিছু অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে। যা না হলেই ভালো হতো। তারা ফুটবলের সব রকম কূটকৌশল ব্যবহার করেছে। এমন ফুটবল দর্শককে মাঠে টানে না। তবে স্বীকার করতেই হবে তারা রক্ষণভাগে ভালো খেলেছে। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন।’ স্কটল্যান্ডের সাবেক উইঙ্গার প্যাট নেভিন বিবিসি রেডিওতে বলেন, ‘প্যারাগুয়ে ম্যাচ জুড়ে ফ্রান্সের খেলোয়াড়দের মেজাজ বিগড়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। তারা বারবার ধাক্কা দেয়া বা গায়ে গা লাগিয়ে উত্ত্যক্ত করার কৌশল নিয়েছে।
তবে সেটি রেফারিকে কার্ড দেখানোর মতো যথেষ্ট গুরুতর ছিল না। ফুটবলে নোংরা কৌশলের (ডার্ক আর্টস) যত রকম উপায় হতে পারে, তারা তার প্রতিটিই ব্যবহার করেছে।’ ম্যাচ শেষে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা জানি কখন অগোছালো ফুটবল খেলতে হয়। প্যারাগুয়ে ভেবেছিল আমরা হয়তো খুব পরিপাটি হয়ে খেলতে আসবো। কিন্তু আমরা তাদের চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। ওই পরিস্থিতিতেও আমরা তাদের চেয়ে ভালো খেলেছি।’ জার্মানির সাবেক মিডফিল্ডার টমাস হিটজেলস্পারজার বিবিসি ওয়ানকে বলেন, প্যারাগুয়ের এমন আচরণে তার বিন্দুমাত্র ‘শ্রদ্ধা’ নেই। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি প্যারাগুয়ের সমর্থক হন, তবে হয়তো তাদের এই যোদ্ধাসুলভ মানসিকতা ভালো লাগবে। কিন্তু আপনি যদি ফরাসি হন অথবা নিরপেক্ষ দর্শক হন, তবে এই দলের জন্য আপনার কোনো সম্মান থাকবে না।
এটা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, তার চেয়েও অনেক বেশি খারাপ।’ উজবেক রেফারি ইলগিজ তানতাশেভের সিদ্ধান্তও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। পুরো ম্যাচে ফাউলের সংখ্যায় ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের মধ্যে খুব একটা ফারাক না থাকলেও কার্ডের হিসাবে পুরোই একপেশে ফল দেখা গেছে। রেফারির চোখ এড়িয়ে গেছে প্যারাগুয়ের আরও অনেক ট্যাকটিক্যাল ফাউল এবং অখেলোয়াড়সুলভ কর্মকাণ্ড।
