উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা সদর

নিয়ে নতুন বিতর্ক, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামে নবগঠিত উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর নির্ধারণকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে সরকারকে এক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। না হয় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। গতকাল সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্তর ফটিকছড়ি সচেতন নাগরিক সমাজ এ দাবি তুলে ধরেন।

গণশুনানির সুপারিশ উপেক্ষা করে উপজেলার সদর দক্ষিণাংশে স্থাপনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। দাবি করেছেন, সদর দপ্তর অবশ্যই নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপন করতে হবে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও জনদাবির পর উত্তর ফটিকছড়িকে দেশের নতুন উপজেলা হিসেবে অনুমোদন দেয়ায় সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। তবে উপজেলা সদর নির্ধারণের ক্ষেত্রে গণশুনানির সুপারিশ উপেক্ষিত হলে নতুন উপজেলার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। বক্তারা বলেন, বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে অতিরিক্ত দূরত্বের কারণে উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, চিকিৎসা, প্রশাসনিক সেবা, যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।

বাস্তবতা বিবেচনায় বাগানবাজার, দাঁতমারা, নারায়ণহাট ও ভুজপুর ইউনিয়ন নিয়ে নতুন উপজেলা গঠনের দাবি ওঠে এবং পরে স্থানীয় প্রশাসন এ বিষয়ে গণশুনানির আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, গণশুনানির পরও দক্ষিণাঞ্চলের হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। অথচ এ বিষয়ে ওই দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মতামত নেয়া হয়নি, যা স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। এ সময় অভিযোগ করা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে ভুজপুরে উপজেলা সদর স্থাপনের চেষ্টা করছে। বক্তাদের দাবি, ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, আয়তন ও রাজস্ব আয়ের দিক থেকে ভুজপুর উপজেলা সদর হওয়ার যৌক্তিকতা নেই।
তারা জানান, বর্তমান ফটিকছড়ি উপজেলা সদর থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার হলেও বাগানবাজার থেকে ভুজপুরের দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। ফলে ভুজপুরে উপজেলা সদর স্থাপন করা হলে উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কাক্সিক্ষত প্রশাসনিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। ফটিকছড়ি উপজেলার মোট আয়তন প্রায় ৭৭৩ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চলের আয়তন প্রায় ৩০১ বর্গকিলোমিটার।

এ এলাকায় প্রায় আড়াই লাখ মানুষের বসবাস এবং প্রায় সোয়া এক লাখ ভোটার রয়েছেন। তাই এত বড় জনগোষ্ঠীর ন্যায্য প্রত্যাশা ও গণশুনানির সুপারিশকে গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। তারা দাবি করেন, উপজেলা পরিষদের পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সুয়াবিল ইউনিয়নকে ভুজপুর থানা এলাকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবেও ইউনিয়নটি উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল না। পরে একটি মহলের প্রভাবে সেটি নতুন উপজেলায় যুক্ত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণশুনানির সুপারিশ অনুযায়ী নারায়ণহাট ও দাঁতমারার মধ্যবর্তী স্থানে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর স্থাপনের বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানানো হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট ইউসুফ আলম মাসুদ, উত্তর ফটিকছড়ি নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ওসমান গণি মজুমদার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দিন সিদ্দিকী সোহেল, হেলথ ভিউ ম্যাটারনিটি অ্যান্ড চাইল্ড হাসপাতালের পরিচালক এডভোকেট শাহজাহান সিরাজ, খায়রুল খোমেনি, খালেদুল আনোয়ার, জহির রায়হানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন