ফরিদপুরের সর্বাধিক পিয়াজ উৎপাদনকারী উপজেলা সালথার পিয়াজ চাষিদের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন। চাষিদের উৎপাদন ব্যয়, বাজারে ন্যায্য মূল্য না পাওয়া এবং সংরক্ষণ সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন। শনিবার দুপুরে এ বিষয়ে কথা হলে ইউএনও দবির উদ্দিন বলেন, সালথার পিয়াজ চাষিদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তিনি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৪ হাজার ৯৫০ হেক্টর আবাদি জমির মধ্যে প্রায় ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে পেয়াজের চাষ হয়। উর্বর মাটি ও অনুকূল পরিবেশের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এ উপজেলা ফরিদপুর জেলার পিয়াজ উৎপাদনের শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষিরা চরম সংকটে পড়েছেন। কৃষকদের হিসাবে, প্রতি কেজি পিয়াজ উৎপাদনে খরচ হচ্ছে প্রায় ২৫ টাকা ১৫ পয়সা, অথচ বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে ২২ টাকা ৫০ পয়সা দরে।
ফলে প্রতি কেজিতে প্রায় ২ টাকা ৬৫ পয়সা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এ ছাড়া উন্নতমানের বীজের সংকট, প্রয়োজনের তুলনায় সারের স্বল্পতা, কৃষি প্রশিক্ষণের অভাব এবং সময়মতো কীটনাশক প্রয়োগের জন্য পর্যাপ্ত স্প্রে মেশিন না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিন বলেন, সালথার পিয়াজ চাষিদের সমস্যা সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি সরকারের কার্যকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চাষিরা উপকৃত হবেন এবং পিয়াজ উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে।
