চাষ হয় ভারতে পাচার হয় বাংলাদেশে

ফন্ট সাইজ:

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবাধে আসছে গাঁজা। উপজেলার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় সীমান্তরক্ষীদের চেকপোস্ট এবং টহল থাকার পরও শত শত মণ গাঁজা প্রবেশ করছে দেশে। ভারতীয় চাষিরা তাদের উৎপাদিত গাঁজার পুরোটাই চুনারুঘাট সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দিচ্ছে। এ কারণে সীমান্ত অঞ্চলে গড়ে উঠেছে একাধিক চক্র। সীমান্তে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ ও বিজিবি’র কড়া টহল ফাঁকি দিয়ে কীভাবে এতো পরিমাণ গাঁজা আসে তার কোনো উত্তর নেই কোনো মহলের কাছে। সীমান্তের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানান, বাল্লা, গুইবিল, রেমা, চিমটিবিল, সাতছড়ি, টেকেরঘাট, মোকামঘাট, টিলাবাড়ি, দুধপাতিল, নালুয়া চা বাগান, কেদারাকোর্ট সীমান্তের ১৮টি পয়েন্ট দিয়ে দিন রাত গাঁজার চালান প্রবেশ করছে। সবচে’ বেশি পরিমাণ গাঁজা আসে চিমটিবিল ও টিলাবাড়ি-দুধপাতি সীমান্ত দিয়ে।

এরপর রয়েছে টেকেরঘাট ও সাতছড়ি সীমান্ত। ভারতের প্রহড়মুড়া, টেংড়াবাড়ি, বাগাবিল ও ঘোষপাড়া এলাকা। একাধিক সূত্র জানান, ভারতের ত্রিপুরা, মনিপুর, আসামসহ প্রায় সব এলাকার পাহাড়ি বাসিন্দারা দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে ব্যাপকহারে গাঁজার চাষ করে থাকে। সম্প্রতি সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুর্গম পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে লক্ষ লক্ষ গাঁজা গাছ ধ্বংস করেছে। প্রতিদিন আটক করছে মাদকের চালান কিন্তু গাঁজা চাষ বা পাচার হ্রাস পায়নি। ফলে চুনারুঘাট উপজেলায় গাঁজা ব্যবসায়ীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। অল্প সময়ে অনেক আয়ের সুযোগ থাকায় চা শ্রমিক থেকে শুরু করে সব সমপ্রদায়ের বড় একটি অংশ গাঁজা ব্যবসায় জড়িয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে নারী এবং শিশু। সীমান্ত সূত্র জানান, চুনারুঘাট সীমান্তের সব ক’টি গ্রামেই রয়েছে গাঁজা ব্যবসায়ী। প্রত্যেকের রয়েছে দামি মোটরবাইক। গাঁজা ব্যবসায়ীদের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়।

সূত্র জানান, নানা পন্থায় গাঁজা পাচার হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাঝে মাঝে কিছু গাঁজা আটক হয়। গত মে মাসে বিজিবি ও বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা প্রায় ১০ কোটি টাকার চোরাইপণ্য আটক করেছে। অধিকাংশই মাদকপণ্য। রাজনৈতিক পালাবদল হলেও বদলায়নি মাদক চোরাচালান তবে বখড়াখোর বদলেছে। যোগ হয়েছে নতুন ব্যবাসায়ী। সূত্র মতে, পুরাতন ব্যবসায়ী যারা একবার জেলহাজত খেটে এসেছে তারা বীরদর্পে গাঁজার ব্যবসা পরিচালনা করে। মাঝে মাঝে নতুন ব্যবসায়ীরা ধরা পড়ে। চুনারুঘাটের চিমটিবিল আমু চাগান সড়ক, আমু চা বাহান-কালিশিরি সড়ক, আমুরোড রেল স্টেশন ভায়া চুনারুঘাট সড়ক, আসামপাড়া-চুনারুঘাট সড়ক, জারুলিয়া-ছনখলা সড়ক, আমুরোড-গোছাপাড়া-শুকদেবপুর-চুনারুঘাট সড়ক, রেমা-বাসুল্লা-নালমুখ সড়ক, কালেঙ্গা-চুনারুঘাট-রাণীগাঁও সড়ক ও গাভীগাঁও- সাটিয়াজুড়ি সড়কসহ বিভিন্ন গ্রামীণ রাস্তা দিয়ে গাঁজা পাচার হয়।

পুলিশসহ ডিবি পুলিশের সাদা পোশাকধারী সদস্যরা সীমান্তে চলাফেরা করেন কিন্তু গাঁজা ব্যবসাযীরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, গাঁজা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সর্বদা কাজ করে চলেছে। বিজিবি’র ৫৫ ব্যাটালিয়নের জোয়ানরা সীমান্তে কড়া নজরদারি করে থাকেন। চুনারুঘাট সীমান্ত পাহাড় ও চা বাগান বেষ্টিত হওয়ার পাচারকারীরা সহজে গা-ঢাকা দিতে সক্ষম হয়। তারপরও টহল পরিচালনা করা খুবই সতর্কতার সঙ্গে। এমনটাই দাবি করেন ৫৫ বিজিবি কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল তানজিলুর রহমান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন