হামজা-জামালদের বেতনের আওতায় আনতে চায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

হামজা-জামালদের বেতনের আওতায় আনতে চায় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

ফন্ট সাইজ:

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর ক্রীড়াবিদদের বেতন কাঠামোর ভেতরে আনার কথা বারবারই বলে আসছেন আমিনুল হক। আগের দিন বিভিন্ন ফেডারেশনের সঙ্গে করে তালিকাও চেয়েছেন নতুন এই মন্ত্রী। ফুটবলারদেরও এর বাইরে রাখতে চান না। নারী ফুটবলাররা বাফুফের চুক্তিবদ্ধ থাকলেও পুরুষ ফুটবলাররা তা নন। জাতীয় দলের হয়ে খেলার কারণে অবশ্য সম্মানী পান তারা। তবে এবার তাদের বেতন কাঠামোর ভেতরে আনতে চায় সরকার। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) গতকাল যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুলের সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) এক বৈঠক হয়। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব উল আলমসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ফুটবলারদের বেতন কাঠামোর ভেতরে নিয়ে আসবো। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, আমাদের তৃণমূল থেকে শুরু করে যারা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ফুটবল দলে খেলতে চায়, তারা অনেক বেশি উৎসাহিত হবে। তারা আগ্রহ প্রকাশ করবে এই ভেবে যে, ‘বাংলাদেশ দলে খেললেই সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তিভিত্তিক বেতন কাঠামোর ভেতরে আমাদের নিয়ে আসা হবে’। এটি অনেক বেশি উৎসাহিত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’ হামজা চৌধুরী, ফাহমিদুল ইসলাম, শমিত শোমরা আসার পর দেশের ফুটবলে নতুন উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় স্টেডিয়ামে যখন তারা খেলতে নামেন, তখন দেখা যায় দর্শকদের তুমুল উন্মাদনা। তবে দেশের সার্বিক ফুটবল অবকাঠামো তেমন একটা সুবিধাজনক নয়। ফুটবল মাঠের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রায়ই সংবাদের শিরোনাম হয়। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক শোনালেন আশার কথা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমাদের আগামীর ফুটবলকে এগিয়ে নিতে এরইমধ্যে আমাদের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিসহ সবাইকে কিছু বিষয় আমরা বলেছি এবং তারাও আমাদের কাছে কিছু বিষয়ে বলেছেন। এখানে বিশেষ একটি বিষয় রয়েছে যে, আমাদের ফুটবলের মাঠের সংখ্যা হয়তোবা বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদে অনেক রয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট করে ফিফা’র অনুদানে আমাদের ফুটবল ফেডারেশন কিছু মাঠের বরাদ্দ আমাদের কাছে চেয়েছে। এরইমধ্যে আমরা আলোচনা সাপেক্ষে তিনটি মাঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা ফুটবল ফেডারেশনের কাছে চুক্তির মাধ্যমে হস্তান্তর করবো। সেই মাঠগুলো হচ্ছে কমলাপুর স্টেডিয়াম, সিলেট স্টেডিয়াম এবং চট্টগ্রাম স্টেডিয়াম। এই তিনটি মাঠকে আমরা আনুষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে ফুটবল ফেডারেশনকে বরাদ্দ দেবো ইনশাআল্লাহ্‌।’ ফিফা’র কাছ থেকে অনুদান নিয়ে কমলাপুর, সিলেট ও চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের গ্যালারি থেকে সার্বিক ব্যবস্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণ করার আশ্বাস দিয়েছেন আমিনুল।’ বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চালিয়ে নিতে একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করা হবে বলে জানান নতুন এই ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি আমাদের বয়সভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট চালিয়ে নিতে এরইমধ্যে ফুটবল ফেডারেশনের কাছ থেকে একটি ক্যালেন্ডার চেয়েছি। আমরাও আমাদের জায়গা থেকে ফুটবলকে এগিয়ে নিতে একটি বাৎসরিক ক্যালেন্ডার তৈরি করে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্টগুলো আমরা করবো। বিশেষ করে গত অনেক বছর ধরেই দেখে আসছি যে, আমাদের জেলা পর্যায়ে লীগগুলো হয় না। যদিও গত বছর থেকে আমাদের আন্তঃজেলা ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। সেটাকে আমরা স্থায়ীভাবে প্রত্যেক জেলায় জেলায় লীগ চালাতে চাই। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি।’


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন