‘বিশ্বকাপ ক্ষত’ নিয়ে পাকিস্তানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

‘বিশ্বকাপ ক্ষত’ নিয়ে পাকিস্তানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

ফন্ট সাইজ:

ভারত-শ্রীলঙ্কায় যখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলছে, তখন দেশের ক্রিকেট আঙিনায় তখন বিষণ্ন নিস্তব্ধতা। নিরাপত্তার অজুহাতে সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিশ্বকাপ বয়কট করেছে। এর বড় খেসারত দিতে হচ্ছে ক্রিকেটারদের। জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহ্‌উদ্দিন জানিয়েছেন, বিশ্বকাপ খেলতে না পেরে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ক্রিকেটাররা; এমনকি দু’জন কোমায় চলে গিয়েছিলেন। এই মানসিক অস্থিরতার মাঝেই ‘অদম্য টি-টোয়েন্টি’ শেষ করে ক্রিকেটাররা এখন খেলছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগ (বিসিএল) ওয়ানডে টুর্নামেন্ট। বিশ্বকাপের পরিবর্তে আয়োজিত এই আসরগুলো কী ক্রিকেটারদের ক্ষত শুকাতে পেরেছে? প্রশ্ন হলো, ৯ই মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে তারা কী নিজেদের ফিরে পাবেন? এমন পরিস্থিতিতে নর্থ জোনের কোচ, সাবেক ওপেনার ও বর্তমান নির্বাচক হান্নান সরকার আশার আলো দেখছেন। ক্রিকেটারদের বর্তমান মানসিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে হান্নান সরকার বলেন, ‘বিশ্বকাপ মিস করাটা যেকোনো খেলোয়াড়ের জন্যই ট্রমাটিক। তবে বিসিএল ওয়ানডে লীগে ব্যস্ততা হতাশা ভুলতে সাহায্য করছে। ড্রেসিংরুমে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেছি, ধীরে ধীরে সেই প্রভাব কমছে। সবাই এখন পাকিস্তান সিরিজে ফোকাস করছে।’ বিশ্বকাপের বদলে ঘরোয়া ওয়ানডে লীগ খেলা কতোটা কার্যকর প্রস্তুতি, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে হান্নান সরকারের মতে, পাকিস্তানের মতো দলের মুখোমুখি হওয়ার আগে বিসিএল একটি আদর্শ মঞ্চ। টি-টোয়েন্টি থেকে বেরিয়ে দীর্ঘ সময় ক্রিজে টিকে থাকার টেম্পারামেন্ট এই ওয়ানডে লীগে ক্রিকেটাররা ফিরে পাচ্ছেন। বিশ্বকাপ খেলে সরাসরি আসায় পাকিস্তান দল থাকবে টি-টোয়েন্টি মেজাজে। অন্যদিকে বাংলাদেশ দল টানা ওয়ানডে খেলে প্রস্তুতি নিচ্ছে। কৌশলগত এই পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে হান্নান সরকার বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি মুড থেকে ওয়ানডেতে মানিয়ে নেয়া সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। পাকিস্তান দল হয়তো টি-টোয়েন্টি মেজাজে থাকবে। কিন্তু আমাদের ছেলেরা যেহেতু নিয়মিত ওয়ানডে ফরম্যাটে খেলছে, তাই ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের যে আলাদা ধৈর্য ও মেজাজ দরকার, তা আমাদের ক্রিকেটারদের মধ্যে এখন তুঙ্গে। এটি আমাদের জন্য পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের অন্যতম বড় একটি বাড়তি সুবিধা হতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
আসন্ন পাকিস্তান সিরিজের সবকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। বর্তমানে ক্রিকেটাররা বিসিএল খেলছেন বগুড়া এবং রাজশাহীর উইকেটে। সাধারণত মিরপুরের উইকেটের আচরণ দেশের অন্যান্য মাঠের চেয়ে আলাদা হয়ে থাকে। বিশেষ করে মিরপুরের স্লো এবং টার্নিং উইকেট অনেক সময় ব্যাটারদের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। বগুড়া ও রাজশাহীর ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে ভালো রান পেলেও মিরপুরের রহস্যময় উইকেটে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কতোটা সম্ভব, তা নিয়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে সংশয় রয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং হোম কন্ডিশনের সুবিধা নেয়ার বিষয়ে হান্নান সরকার বেশ আশাবাদী। তিনি মাঠের প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ‘রাজশাহী ও বগুড়ার উইকেট এখন বেশ সুন্দর আচরণ
করছে, প্রচুর রান হচ্ছে যা ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। মিরপুরের উইকেট নিয়ে আমরা সবসময়ই সচেতন। তবে আমাদের ক্রিকেটাররা মিরপুরের উইকেটে খেলেই বড় হয়েছে। সেখানে হয়তো চ্যালেঞ্জ কিছুটা বেশি থাকবে, কিন্তু এই টুর্নামেন্টের রান এবং বোলিং ছন্দ আমাদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে।’ সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শোক কাটিয়ে ওঠার লড়াই আর পাকিস্তানের বিপক্ষে মর্যাদার সিরিজের প্রস্তুতি এই দুইয়ের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট। যদিও কোচ সালাউদ্দিনের তোলা মানসিক অবসাদের মেঘ পুরোপুরি কেটে গেছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে, তবে মাঠের ক্রিকেটে ফেরাটাই এখন বড় সমাধান।

বড়লাট

৩ মাস আগে

অন্তর্বর্তী

মন্তব্য করুন