মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে পিতাকে কুড়াল দিয়ে হত্যা করার অভিযোগে সৌদি প্রবাসী ছেলে মো. ফয়াজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকার কদমতলী থানাধীন পাগলা ওয়াসা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ২৬শে জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে জুড়ীর গায়ালবাড়ী ইউনিয়নের মন্ত্রিগাঁও গ্রামে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, ফয়াজ তার পিতা সুলতান আলীকে পেছন দিক থেকে কুড়াল দিয়ে আঘাত করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় সুলতান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার পর ফয়াজ পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টিকে দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে জানান, তার পিতা উঠানে পড়ে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। তবে তার ভাই আয়াজ মিয়ার স্ত্রী শামীমা আক্তার এবং বড় ভাই সামছু মিয়ার স্ত্রী হোছনা বেগম পুরো ঘটনাটির সাক্ষী ছিলেন।
পরবর্তীতে নিহতের মেয়ে হ্যাপী বেগম এবং ফয়াজ মিয়া নিজেই সুলতানকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হলে ফয়াজ জানান যে, তিনি পরে সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাড়িতে ফিরবেন। কিন্তু হাসপাতাল থেকে তিনি পালিয়ে যান। পরদিন নিহতের দাফনের সময় ফয়াজ বাড়িতে উপস্থিত না হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ সময় শামীমা ও হোছনা পরিবারের সদস্যদের জানান যে, ফয়াজই কুড়াল দিয়ে মাথার পেছনে আঘাত করে বাবাকে হত্যা করেছেন। পরে নিহতের স্বজনরা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করলে তাদের পরামর্শে মরদেহ দাফন না করে জুড়ী থানায় সংবাদ দেয়া হয়। এদিকে নিহতের ছেলে সাহেদ মিয়া থানায় এজাহার দায়ের করলে জুড়ী থানায় হত্যা মামলা রুজু হয়।
মামলা রুজুর পর ঢাকার কদমতলী থানাধীন পাগলা ওয়াসা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় ফয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। জুড়ী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হলে ঘটনার দায় স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
