ময়মনসিংহের তারাকান্দা সরকারি কলেজের সাচিবিক বিদ্যা বিষয়ের সাবেক প্রভাষক মো. সাইদুল হকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পরও জালিয়াতির মাধ্যমে পুনর্বহালের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব এবং ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক (ডিসি) বরাবর পৃথক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, সাইদুল হক গত ৩ থেকে ৪ বছর ধরে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন ছিল এবং কয়েকটি মামলায় তিনি আদালত কর্তৃক দণ্ডপ্রাপ্ত হন। অভিযোগ অনুযায়ী, আইনি জটিলতা এড়াতে তিনি দীর্ঘদিন বিদেশে আত্মগোপনে ছিলেন। এ সময় কলেজ সরকারি হলেও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তিনি সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারেননি। অভিযোগে আরও বলা হয়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর দেশে ফিরে তিনি নিয়মিত প্রক্রিয়ায় যোগদান না করে ভিন্ন উপায়ে চাকরির ধারাবাহিকতা দেখানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের আইসিটি বিষয়ের প্রভাষক মো. মুজিবুর রহমান পরিচালিত একটি ব্যক্তিগত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বসে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. জাকারিয়া সরকারের সহযোগিতায় কলেজের প্যাড সংগ্রহ করা হয়। পরে তৎকালীন অধ্যক্ষের মাধ্যমে বা প্রভাব খাটিয়ে চাকরির ধারাবাহিকতা রয়েছে এমন মর্মে একটি ভুয়া প্রত্যয়নপত্র তৈরি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অভিযোগে বলা হয়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান অধ্যক্ষ যোগদানের পর তথ্য গোপন করে তার কাছ থেকেও আরেকটি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।
এসব কাগজপত্রের ভিত্তিতে বর্তমানে অভিযুক্ত প্রভাষক পুনর্বহালের তৎপরতা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারী আব্দুল হেকিম মণ্ডল, আব্দুল মালেক ও কাজী আব্দুল বাতেন বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এবং আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত একজন ব্যক্তি যদি জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পুনর্বহালের সুযোগ পান, তাহলে তা শিক্ষার পরিবেশ ও প্রতিষ্ঠানের সুশাসনের জন্য অশনিসংকেত। তাই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযুক্ত প্রভাষকের পুনর্বহালের সব ধরনের উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানান তারা। অভিযুক্ত সাইদুলের বলেন, চেকের একটি মামলা ছিল তাই সরকারিকরণে অন্তর্ভুক্ত হতে পারেনি। তবে এখন মামলা শেষ করেছি।
