আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকেট-লালমাই) আসনে ভোটের রাজনীতি জমে উঠছে। বদলাতে শুরু করেছে সমীকরণ। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। প্রার্থীদের সক্রিয় প্রচারণায় বদলাতে শুরু করেছে এ আসনের ভোটের হিসাব। নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-১০ আসন। বিএনপি’র আধিক্য হিসেবে পরিচিত আসনটিতে বর্তমানে জামায়াতে ইসলামী হাড্ডাহাড্ডি অবস্থানে। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে চমক দেখাতে পারে জামায়াত।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় বিএনপি’র নির্বাহী সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াসিন আরাফাত। এ ছাড়াও এ আসনে আরও পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। এ আসনে বিএনপি’র চূড়ান্ত দলীয় মনোনয়ন পান আব্দুল গফুর ভূঁইয়া কিন্তু দ্বৈত নাগরিকত্বের ইস্যুতে তার মনোনয়ন বাতিল করে আদালত। আব্দুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিলের দিনই মোবাশ্বের আলমকে বিএনপি মহাসচিবের সই করা দলীয় প্রত্যয়নপত্রে কুমিল্লা-১০ আসনের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। পরে ৬ই জানুয়ারি আদালত তার মনোনয়ন বৈধ করে ও প্রতীক বরাদ্দে ইসিকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
বিএনপি’র এ দুই নেতার নিজেদের মনোনয়ন নিয়ে এলাকায় আন্দোলন ও আদালতে দৌড়াদৌড়ি করে সিংহভাগ সময় কেটেছে। এর মধ্যে গ্রামে, পাড়া-মহল্লায় ভোটারদের নিকট পৌঁছেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত। ভোটারদের নিকট তুলে ধরেছেন নিজের কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি। শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন নিয়ে মাঠে নামলেও ঘর গোছাতেই সময় পার করতে হচ্ছে বিএনপি’র প্রার্থী মোবাশ্বের ভূঁইয়াকে। ইতিমধ্যে জেলা বিএনপি’র মধ্যস্থতায় গফুর-মোবাশ্বের দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। ৪ঠা ফেব্রুয়ারি থেকে নাঙ্গলকোটে মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন আব্দুল গফুর ভূঁইয়া। এ সময় তারা উভয়ই নিজেদের বিরোধ মিটিয়ে ফেলেছেন বলে কর্মীদের জানান দেন। আব্দুল গফুর মিয়া বিভিন্ন সমাবেশে বলেন, নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রা নিশ্চিত করে লাভ নেই। আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। ফলে বিএনপি নেতাকর্মীরা আগের তুলনায় বেশ উজ্জীবিত। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব পড়তে সময় লাগবে। যার কারণে এ নির্বাচনেও অতীত দ্বন্দ্বের প্রভাব থাকবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
বিএনপি’র ঘর গোছানোর মধেই প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নির্বাচনী সকল আয়োজন সম্পন্ন করে ফেলেছেন বলে জানিয়েছেন তার সমর্থকরা। নাঙ্গলকোটের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কতো সরকার আইলো গেল নাঙ্গলকোটের রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। কিছু কিছু ব্যক্তির উন্নয়ন হয়েছে। আমরা চাই এমন একজন এমপি নির্বাচিত হোক, যিনি নিজের উন্নয়নের কথা চিন্তা না করে, নাঙ্গলকোটের সার্বিক উন্নয়ন করবে। জনগণের জন্য সরকার নির্ধারিত বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে পৌঁছে দেবে এবং মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ করবে। নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-১০ নির্বাচনী এলাকা। এখানে মোট ভোটার ৫ লাখ ২২ হাজার ২৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৬৩ হাজার ৫৫৩ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৮ হাজার ৭৩৫ জন। পোস্টাল ভোটার ১৩ হাজার ৯৩৮ জন।
কুমিল্লা-১০ (লালমাই-নাঙ্গলকোট) আসনে ভোটকেন্দ্র ১৫২টি। পুলিশের তালিকা অনুযায়ী এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত ১১৩টি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মোট প্রার্থী ৬ জন। প্রার্থীরা হলেন- বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাওলানা মুহাম্মদ ইয়াছিন আরাফাত, মুক্তিজোটের ছড়ি প্রতীকের কাজী নূরে আলম সিদ্দিকী, আম জনতা পার্টির প্রজাপতি প্রতীকের আব্দুল্লাহ আল নোমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের সামছুদ্দোহা, গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের রমিজ বিন আরিফ এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের ডাব প্রতীকের হাসান আহমেদ।
স্থানীরা জানান, এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে। বিএনপি’র দলীয় নানাবিধ সমস্যার ফলে জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক ও জনসমর্থনে তাদের কাছাকাছি অবস্থানে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও সাধারণ ভোটাররাই হবে এ আসনে জয়-পরাজয় নির্ধারণের মূল ফ্যাক্টর।
কুমিল্লা -১০
বিএনপি-জামায়াত হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
তাজুল ইসলাম, নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা) থেকে
৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
