শারীরিক নির্যাতনের শিকার, ঝুঁকিপূর্ণ ও পথশিশু-কিশোরদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে ঢাকার কালীগঞ্জে একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন করেছে লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (লিডো)।
‘উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দক্ষতা’ প্রতিপাদ্যে প্রতিষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শিশু ও তরুণদের বাজারমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তারা আত্মনির্ভরশীলতা, আত্মবিশ্বাস এবং টেকসই জীবিকার পথ খুঁজে পাবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় লিডোর প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর ফারহানা আক্তারও উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বিউটিফিকেশন ও পার্সোনাল কেয়ার, টেইলারিং ও ফ্যাশন ডিজাইন, হস্তশিল্প, জুয়েলারি তৈরি, ডেকোরেটিভ আর্টস, কার্পেন্ট্রি ও উডওয়ার্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিউটিফিকেশন ও পার্সোনাল কেয়ার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা চুলের পরিচর্যা, ত্বক পরিচর্যা, মেকআপ, গ্রুমিং, স্বাস্থ্যবিধি এবং গ্রাহকসেবা বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করবে। এর মাধ্যমে তারা বিউটি পার্লার ও সেলুনে কাজের সুযোগ পাবে, পাশাপাশি ঘরে বসে ছোট পরিসরে সেবা কার্যক্রমও শুরু করতে পারবে।
টেইলারিং ও ফ্যাশন ডিজাইন প্রশিক্ষণে সেলাই, এমব্রয়ডারি, প্যাটার্ন তৈরি, পোশাকের ফিনিশিং এবং মান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে শেখানো হবে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় দর্জির দোকান, গার্মেন্টস কারখানায় কাজ কিংবা নিজস্ব ছোট ব্যবসা গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।
এ ছাড়া হস্তশিল্প, জুয়েলারি তৈরি, সাজসজ্জার শিল্প, কাঠের কাজ ও রক্ষণাবেক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের সৃজনশীলতা, কারিগরি দক্ষতা, নিরাপত্তাবোধ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও তরুণদের জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা শুধু কর্মসংস্থানের সুযোগই তৈরি করে না, বরং তাদের মর্যাদাপূর্ণ ও উৎপাদনশীল জীবন গঠনের পথও সুগম করে। এই উদ্যোগ লিডোর বিদ্যমান শিক্ষা, খাদ্য সহায়তা, আশ্রয়, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং মনোসামাজিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
লিডোর পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতেও সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
