আসন্ন বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভূমিকা নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করে বর্তমান কমিটি বাতিল করে নিরপেক্ষ নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার বগুড়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তোলেন সভাপতি পদপ্রার্থী মো. সেলিম রেজা। আগামী ৫ই জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কমিটি শুরু থেকেই একটি বিশেষ প্যানেলের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করে আসছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ওই প্যানেলের পক্ষ থেকে পত্রিকায় ঢালাওভাবে বিজ্ঞাপন প্রকাশ এবং ভোটারদের প্রভাবিত করতে প্রতিনিয়ত ভোজসভার আয়োজন করা হচ্ছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও তারা কোনো ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে মারাত্মক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয় ভোটার আইডি কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া নিয়ে। সভাপতি পদপ্রার্থী সেলিম রেজা জানান, ভোটার আইডি কার্ড ভোটারকে নিজে উপস্থিত থেকে সংগ্রহ করার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলের পক্ষ থেকে মাত্র দু’জনের স্বাক্ষরে প্রায় ৬ শতাধিক ভোটার আইডি কার্ড উত্তোলন করা হয়েছে।
এমনকি ওই প্যানেলের পক্ষ থেকে মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে ভোটারদের তাদের নিকট থেকে কার্ড সংগ্রহ করার জন্য বলা হচ্ছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই গুরুতর বিষয়টি প্রথমে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে রেজিস্টার খাতা পরীক্ষা করে তার সত্যতা পাওয়া যায়। সেখানে দেখা যায়, সভাপতি পদপ্রার্থী আতিকুর রহমান বাদলের প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার এবং একই অফিসের স্টাফ রফিকুলের স্বাক্ষরে বিপুলসংখ্যক এই কার্ডগুলো উত্তোলন করা হয়েছে। এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে চেম্বারের অফিস সেক্রেটারি মাসুদ রানা প্রার্থীদের সঙ্গে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতিতে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ও অফিস স্টাফদের এমন রহস্যজনক ও একপেশে আচরণে আসন্ন নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে তীব্র সংশয় প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা।
বর্তমান কমিটির অধীনে কোনোভাবেই স্বচ্ছ নির্বাচন সম্ভব নয় উল্লেখ করে, ভোটারদের ভোটাধিকার রক্ষা ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে বর্তমান নির্বাচন পরিচালনা কমিটি অবিলম্বে বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২০ বছর পর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত বাদল-হিরু এবং জামায়াত সমর্থিত সেলিম-এরশাদ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনে সভাপতি, সহ-সভাপতির দু’টি ও ৯টি পরিচালকসহ ১২টি পদে ২৮ জন প্রার্থী রয়েছেন। মোট এক হাজার ৭৭ জন ভোটার ৫ই জুলাই সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত শহীদ টিটু মিলনায়তনে ভোট দেবেন। প্রচারের শেষদিকে রাত-দিন প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে ছুটে যাচ্ছেন।
