অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরীক্ষার সুযোগ পেলেন ৮ শিক্ষার্থী

ফন্ট সাইজ:

শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা ও রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজে প্রতারণার শিকার ৮ এইচএসসি পরীক্ষার্থী অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলোতে অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। শনিবার (৪ঠা জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের হাতে প্রবেশপত্র তুলে দেয়া হবে। শুক্রবার বিকেলে মানবজমিনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহীর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ইফফাত জেরিন বিষয়টি মানবজমিনকে নিশ্চিত করে বলেন, কলেজের অধ্যক্ষকে দ্রুত প্রবেশপত্র বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রথম পরীক্ষাটি গ্রহণের বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শুক্রবার দুপুরে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে এক টেলিকনফারেন্সে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল হক ও আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মামদুদুর রহমান সঙ্গে কথা বলেন।

এ সময় তিনি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ক্ষতি যাতে না হয়, সে বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। এর পরপরই শিক্ষা বোর্ড প্রবেশপত্র প্রস্তুত করে বলে মানবজমিনকে নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী।

এছাড়া সন্ধ্যার দিকে অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকারকে পুলিশ আটক করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ। এর আগে বৃহস্পতিবার কলেজ প্রশাসন রসায়ন বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

প্রসঙ্গত, আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সূচি, সবুজ আহমেদ, শিমুল শেখ, আকিবুল ইসলাম, তানভীর হোসেন, শিমুল আলী, সাব্বির হোসেন ও শাওন ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় সার্ভারজনিত জটিলতায় পড়েন। পরে গত ১২ই মার্চ বিলম্ব ফিসহ ফরম পূরণের জন্য কলেজে গেলে গ্রন্থাগারের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার তাদের ফরম পূরণ করে দেয়ার আশ্বাস দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু তিনি সেই অর্থ যথাযথভাবে জমা দেননি। ফলে আট শিক্ষার্থীর কারও ফরম পূরণ হয়নি এবং প্রবেশপত্র না পাওয়ায় তারা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে অংশ নিতে পারেননি। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে মানবজমিনকে বলেছিলেন, তিনি ফরম পূরণের চেষ্টা করেছিলেন, তবে সফল হননি। এজন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে টাকা ফেরত দেয়ার আশ্বাস দেন ও সকলের কাছে ক্ষমা চান।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন