গঙ্গাচড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-দাদার পর চলে গেল শিশু বন্ধনও

গঙ্গাচড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-দাদার পর চলে গেল শিশু বন্ধনও

ফন্ট সাইজ:

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় দাদা ও বাবার মৃত্যুর পর গুরুতর আহত ৭ বছরের শিশু বন্ধন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। বাবা ও দাদার লাশের দাহ শেষে শিশু বন্ধনও মারা যাওয়ার সংবাদে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়রা জানায়, গঙ্গাচড়া ইউনিয়নের চেংমারী কুড়িয়ার মোড় এলাকার নির্মল চন্দ্র সরকার (৭০), তার ছেলে প্রশান্ত চন্দ্র সরকার (৩৫) ও প্রশান্তের ছেলে বন্ধনকে নিয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আলমবিদিতর ইউনিয়নের তুলশীরহাট এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার জন্য মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে মন্থনা বাজার এলাকায় মমো জুট মিলের সামনে গেলে বিপরীত দিক হতে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে পাকা সড়কে ধানের খড় শুকানোতে মোটরসাইকেল স্ল্লিপ করলে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সড়কে ছিটকে পড়ে ৩ জন। এতে মোটরসাইকেলচালক প্রশান্ত ঘটনাস্থলে মারা যান।

মাথায় গুরুতর আহত নির্মল ও বন্ধনকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালে যাওয়ার পথে নির্মলও মারা যান এবং বন্ধন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এদিকে দুর্ঘটনার পরেই ট্রাকচালক পালিয়ে গেলেও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকটি আটক করে এবং পরিবারের অনুরোধে বাবা ও ছেলের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। নির্মল ও প্রশান্ত দু’জনে পেশায় পল্লী চিকিৎসক ছিলেন। রাতে বাবা নির্মল ও ছেলে প্রশান্তের লাশের দাহ করে লোকজন রাত ১২টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় সংবাদ আসে বন্ধনও মারা গেছে। এ সংবাদ পাওয়ার পরই নির্মলের স্ত্রী বৃদ্ধা ডালিম ও প্রশান্তের স্ত্রী খুশিবালাসহ পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজনরা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। বাবা ও দাদার লাশ দাহের পর ওই রাতেই আবার শিশু বন্ধনের লাশ দাহ করা হয়।

একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যুর পর সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দার ঝড় ওঠে। সড়কে খড়, ভুট্টা, ধানসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য শুকানো নিয়ে। অন্যদিকে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে বৃহস্পতিবার রাতেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার জেসমিন আক্তার সড়কে কোনোরকম খড়, ভুট্টা, ধান শুকানো বা যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় এমন কোনো জিনিস না শুকানোর জন্য মাইকিং করে নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন