হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে লাগামহীন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘণ্টায় তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার পাশাপাশি কোথাও টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা, আবার কোথাও দিনে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অব্যাহত এই পরিস্থিতিতে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীরা জানান, পৌর এলাকায় এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং হলেও উপজেলার নিশাপট, মরড়া, বিরামচর, সহআলাপুরসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেক সময় এক মিনিটের ব্যবধানে দুই-তিনবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। ফলে ফ্রিজ, টেলিভিশন, কম্পিউটার, মোটর, আইপিএস সহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বাজারের দোকানপাট, ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠান, ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসা ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানেও বিঘ্ন ঘটছে। চরম উদ্বেগে রয়েছেন পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীরা জানান, বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রাতে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে।
শায়েস্তাগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশের চলমান তাপপ্রবাহ, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকায় সাময়িকভাবে এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ও এক ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের সূচি অনুসরণ করার কথা বলা হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাস্তবে সেই সূচি মানা হচ্ছে না। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় এবং সম্পূর্ণ অনিয়মিতভাবে লোডশেডিং করা হচ্ছে।
