রায়পুরে ৬০ দিনে ৯ খুন, আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ

রায়পুরে ৬০ দিনে ৯ খুন, আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ

ফন্ট সাইজ:

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বিচ্ছিন্ন ঘটনাসহ ধারাবাহিক কয়েকটি হত্যাকাণ্ডে জনমনে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পারিবারিক বিরোধ, মাদক প্রতিরোধ, জমি-সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব, অপহরণ এবং রহস্যজনক ঘটনায় গেল ৬০ দিনে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। একের পর এক এসব ঘটনায় উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আইনশৃঙ্খলার ধারাবাহিক অবনতির কারণে ইতিমধ্যে রায়পুর থানার ওসি শাহিন মিয়াকে বদলি করে পূর্বের ওসি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়াকে পুনরায় রায়পুর থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে গত ২৫শে জুন সকালে রায়পুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোডাউন রোড এলাকায়।

একটি ভাড়া বাসায় শাহীনুর বেগম (৩৮), তার বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া বড় মেয়ে সাইমা, কলেজ পড়ুয়া মেজো মেয়ে ইকরা আক্তার (১৮) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)কে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় অন্তর মজুমদার নামে সন্দেহভাজন এক যুবক গণপিটুনিতে নিহত হন। এর আগে মাদক বিক্রিতে বাধা দেয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত টাইলস মিস্ত্রি সাগর (৩২) টানা ১৮ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ৩০শে জুন রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ছাড়া উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের পূর্ব চরপাতা এলাকায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধে মো. হানিফ (৬২) নিহত হন। একই সময়ে কেরোয়া ইউনিয়নের নয়ারহাট এলাকায় নিখোঁজের একদিন পর শিশু সানি আল ফারাবির লাশ পার্শ্ববর্তী একটি খাল থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। অন্যদিকে দক্ষিণ গাইয়ারচর এলাকায় অপহরণের পর হত্যা করা হয় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক রাজীব (১৮) ও সোনাপুর ইউনিয়নে নিখোঁজের একদিন পর আরেক অটোচালকের লাশ পাওয়া যায় বালুর স্তূপে।

তাছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নিহত হন উদমারা গ্রামের এক কলেজছাত্র এবং চরবংশী এলাকায় পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করার পরের দিন একটি বাগান থেকে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়। টানা এসব হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হলেও অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকর ও গোয়েন্দাভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, ক্রমবর্ধমান এসব হত্যাকাণ্ড রায়পুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধ দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত টহল জোরদার এবং সামাজিক বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তিতে সমন্বিত উদ্যোগ নেয়া জরুরি। এ বিষয়ে রায়পুর থানার সদ্য বিদায়ী ওসি শাহিন মিয়া বলেন, এসব ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা ও মামলা নিয়েছি। এ ছাড়া আসামি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদকের টাকার জোগান দিতে এসব অপরাধ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন