দুই বছরে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা বন্ধ

সহযোগীদের খবর

দুই বছরে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা বন্ধ

ফন্ট সাইজ:

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘দুই বছরে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা বন্ধ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত দুই বছরে পাঁচ শতাধিক শিল্পকারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এই হিসাব শিল্প পুলিশ ও উদ্যোক্তা সংগঠনগুলোর। কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব এবং সে কারণে উৎপাদন সক্ষমতা কমে আসা। এমন পরিস্থিতিতে আরও অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

পোশাক খাতেই কাজ হারিয়েছেন দেড় লাখ শ্রমিক। অন্যান্য খাত হিসাবে নিলে এ সংখ্যা অনেক বড় হবে।

শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়ার প্রভাবে রপ্তানি আয়ও কমছে। সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি আগের অর্থছরের চেয়ে ১ শতাংশের মতো কমেছে। আর রপ্তানি আয় কমেছে আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। পাশাপাশি এই সময়ে নতুন রপ্তানি আদেশ কমেছে। পরিসংখ্যান ব্যুরোর হালনাগাদ উপাত্ত বলছে, গত অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি মাত্র ২ দশমিক ৮৬ শতাংশে নেমে এসেছে।

শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের অভিঘাত বলছেন অর্থনীতিবিদরা। গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, এত শিল্পকারখানা বন্ধ থাকা এবং আরও বড় সংখ্যক কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে থাকা দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য অনেক বড় অভিঘাত। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তার মতে, সরকার প্রণোদনা তহবিল ঘোষণা করলেও অনেক শিল্পকারখানাই এখন আর উৎপাদনে ফেরার মতো অবস্থায় নেই। কিছু কারখানার জন্য টাকাই যথেষ্ট নয়। তাদের জন্য ‘এক্সিট পলিসি’ নেওয়া যেতে পারে। আর প্রণোদনায় প্রাণ ফিরবে এমন কারখানায় পরিচালন পুজি জোগান ও গ্যাস-বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। শ্রমিকের একটু ভালো রাখার জন্য শিল্প এলাকায় ওএমএস কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা দরকার।

কাজ হারিয়েছেন দেড় লাখ শ্রমিক

ইন্ডাস্ট্রিঅল গ্লোবাল ইউনিয়ন ট্রেড ইউনিয়নের একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম। ১৩০টি দেশে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। প্ল্যাটফর্মটির বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার মনে করেন, দুই বছরে বন্ধ কারখানার প্রকৃত সংখ্যা ৫০০ নয়, এর দ্বিগুণ হবে। বড় কারখানার বাইরে ছোট কারখানা বন্ধ হলে সরকারি সংস্থা বা বাহিনী তা নথিভুক্ত করে না। তাঁর দাবি, গত দুই বছরে শুধু পোশাক খাতেই দেড় লাখ শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন।

উদ্যোক্তা ও শ্রমিক নেতারা জানিয়েছেন, কারখানা বন্ধের প্রধান কারণ গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব এবং উৎপাদন সক্ষমতা কমে আসা। কিছু কারখানার ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা ও সময়মতো শিপমেন্ট করতে না পারা বন্ধ হওয়ার কারণ। আন্তর্জাতিক কারণের মধ্যে রয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলাকে কেন্দ্র করে জ্বালানিসহ বিশ্ববাজারে অস্থিরতা; রাশিয়া, ইউক্রেনের যুদ্ধের অভিঘাত, যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক আরোপ এবং এর জেরে বিশ্ববাণিজ্যের ওলট-পালট পরিস্থিতি ও বিশ্ববাজারে নিম্নমুখী চাহিদা।

পরিসংখ্যান কী বলে

শিল্প পুলিশের হিসাবে ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছরে ৪৫৭টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে ১৭০টি। বাকি ২৮৭টি পোশাকবহির্ভূত। বন্ধ হওয়ার তালিকায় তৈরি পোশাক উৎপাদক ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সদস্য কারখানা ১০৮টি, নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর কারখানা ৩৫টি, বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর কারখানা আটটি। বাকি ১৯টি বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজার অধিভুক্ত কারখানা।

তবে শিল্প পুলিশের তথ্যের সঙ্গে পোশাক ও বস্ত্র খাতের তিন সংগঠনের তথ্যের ফারাক রয়েছে। বিজিএমইএর উপাত্ত বলছে, দুই বছরে সংগঠনের ২২১টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর সর্বাধিক ১৪১টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। আগের বছর ২০২৪ সালে বন্ধ হয় ৭৭টি কারখানা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম জোন মিলে বিজিএমইএর সদস্য কারখানা এখন ২ হাজার ১২৭টি।

শিল্পাঞ্চলে গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট

গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও চট্টগ্রামের শিল্পাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ আগের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। চাহিদার তুলনায় সাভার ও আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর সরবরাহ প্রায় ৪০ শতাংশ কম। ফলে লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে জেনারেটর চালাতে হয়। সে ক্ষেত্রেও গ্যাস ও ডিজেল চাহিদামতো না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

এ ছাড়া নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় অনেক কারখানা উৎপাদনে যেতে পারছে না। চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের ডজন খানেক স্টিল রি-রোলিং মিল এবং সিরামিক কারখানা গ্যাসের চাপ সংকটের কারণে তাদের চুল্লি ঠিকমতো চালু রাখতে পারছে না।

আরও কারখানা ঝুঁকিতে

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সমকালকে বলেন, বন্ধ হওয়া দুই শতাধিক কারখানার বাইরে আরও দুই শতাধিক কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে। কারখানাগুলো এখন আংশিক সচল। যে কোনো সময় এগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরকারের প্রণোদনা তহবিল থেকে ঋণ পাওয়ার আগ্রহ দেখানো এই ৪০০ কারখানার সক্ষমতা যাচাইয়ে দুটি অডিট ফার্মকে এরই মধ্যে কাজ দেওয়া হয়েছে। কারখানাগুলো পরিদর্শন করে বিজিএমইএর কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে তারা। অডিট ফার্মগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে বিজিএমইএ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে তালিকা দিয়ে ঋণ সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানাবে।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘যদি আমাকে ৫০০ বার প্রশ্ন করেন, শিল্পের জন্য কী চান? প্রতিবারই আমি বলব নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ।’ গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে ঋণ সহায়তা দিয়ে শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা যাবে না।’

বিটিএমএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের সদস্য ২৩৪টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। অবশ্য এই হিসাব ২০১৯ সাল থেকে গতকাল পর্যন্ত। বন্ধ কারখানার মধ্যে ১১৪টি স্পিনিং অর্থাৎ সুতা উৎপাদনের কারখানা। বন্ধ থাকা বাকি কারখানাগুলো কাপড় তৈরি, ডায়িং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিংয়ের। বন্ধ হওয়ার পর বিটিএমএর কারখানার সংখ্যা এখন ১ হাজার ৮৬৯টি। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল সম্প্রতি জানিয়েছেন, তারই পাঁচটি স্পিনিং মিল বন্ধ রয়েছে।

বিটিএমএ সূত্র জানিয়েছে, কারখানা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ১ হাজার ১২১ কারখানায় আংশিক উৎপাদনে রয়েছে। সক্ষমতার প্রায় অর্ধেক উৎপাদন হচ্ছে কারখানাগুলোতে। বিজিএমইএর এ মুহূর্তে আংশিক সচল কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৩২১টি। আংশিক চালু কারখানাগুলোর অধিকাংশই বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে আছে।

আশুলিয়ার লিটিল স্টার স্পিনিং মিল দীর্ঘদিন ধরে সক্ষমতার ৫০ শতাংশ কম উৎপাদন করছে। মিলটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম খোরশেদ আলম সমকালকে বলেন, তাঁর কারখানায় গ্যাসের চাপ থাকার কথা ১০ পিএসআইজি। অথচ বেশির ভাগ দিনই ১ বা ২ পিএসআইজির বেশি থাকে না। এ কারণে মেশিন চালু করা যায় না। কোনো রকমে সক্ষমতার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করছেন তিনি।

রপ্তানি আদেশ কমছে

রপ্তানি আদেশের পরিস্থিতি বোঝা যায় ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন- ইউডির উপাত্তে। রপ্তানি আদেশ পাওয়ার পর পোশাক উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামাল আমদানি করে থাকে কারখানাগুলো। আদেশে উল্লিখিত পোশাকের পরিমাণ অনুযায়ী কাঁচামালের প্রয়োজনীয়তার সনদ হচ্ছে ইউডি। এ সনদ সরকারের পক্ষে পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ দিয়ে থাকে।

উপাত্তে দেখা যায়, আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে রপ্তানি ইউডি সংখ্যা ও অর্থমূল্যে ব্যাপক হারে কমেছে। গত বছরের মার্চ মাসে ইউডির সংখ্যা ছিল ২৩ হাজার ৬৯৭টি। অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩৫ কোটি ডলার। এ বছরের মার্চে ইউডি কমে হয়েছে ২১ হাজার ৪৪১টি। অর্থমূল্য ২০০ কোটি ডলারের কিছু কম।

গত বছরের এপ্রিলে ইউডির সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৪৮৮টি। এর বিপরীতে পণ্যের অর্থমূল্য ছিল ২৩৪ কোটি ১৬ লাখ ডলার। এ বছরের এপ্রিলে ইউডি ছিল ২৭হাজার ৫১৫টি। অর্থমূল্য ২৮৫ কোটি ডলারের কম। গত বছরের মে মাসে ইউডি ছিল ২৬ হাজার ৫৪১টি। অর্থের পরিমাণ ২২৭ কোটি ডলার। এ বছরের একই মাসে ইউডি কমে হয় ২৬ হাজার ৬৮টি। অর্থমূল্য কমে দাঁড়ায় ২৫৪ কোটি ডলার। গত বছরের জুনে ছিল ১৮ হাজার ৩৭২টি। অর্থের পরিমাণ ছিল ২২৭ কোটি ডলারের বেশি, যা গেল জুনে হয়েছে ১৭৯ কোটি ডলার।

বণিক বার্তা

বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘বৈশ্বিক পোশাক রফতানিতে দ্বিতীয় স্থান হারাতে পারে বাংলাদেশ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ওয়ার্ল্ড ট্রেড স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৫ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বৈশ্বিক পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল দ্বিতীয়।

ওই বছর বাংলাদেশের পোশাক রফতানি ছিল প্রায় ৩৯ বিলিয়ন ডলার, যেখানে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভিয়েতনামের রফতানি ছিল ৩৮ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু এরপর থেকে রফতানির এ চিত্র বদলাতে শুরু করেছে।

সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলারে।

অন্যদিকে, ভিয়েতনাম টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল অ্যাসোসিয়েশনের (ভিআইটিএএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পোশাক ও টেক্সটাইল রফতানি এরই মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং চলতি বছরে ৪৭ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য রয়েছে দেশটির।

একই সময়ে ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানও বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে। ফলে বৈশ্বিক পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

ইত্তেফাক

ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘নেতিবাচক ধারা থেকে বের হতে পারেনি রপ্তানি খাত।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি ৪৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের যা ছিল ৪৮.২৮ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ দশমিক ৫৮ শতাংশ রপ্তানি কমেছে।

অর্থবছরের ১২ মাসের মধ্যে মাত্র দুই মাস রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি দেখা গেলেও বাকি ১০ মাসই নেতিবাচক ধারা থাকায় বছর শেষে সামগ্রিক রপ্তানি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে ফিরতে পারেনি।

বিশেষ করে, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়াই সামগ্রিক চিত্রকে প্রভাবিত করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

নয়া দিগন্ত

নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘তিস্তায় নতুন সমীকরণ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আবারো নতুন করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, বাংলাদেশের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই চীন তিস্তা প্রকল্পে সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো ভূরাজনৈতিক বা কৌশলগত বিবেচনা নেই।

কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বর্তমান বাস্তবতায় তিস্তার মতো একটি বৃহৎ অবকাঠামো ও নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পকে কেবল উন্নয়ন সহযোগিতার সীমার মধ্যে ব্যাখ্যা করা কঠিন।

এই প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা নিয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সবসময় সংযত থাকলেও বিভিন্ন কৌশলগত বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমে এ নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন দেখা গেছে।

কারণ, ভারতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে বৃহৎ চীনা প্রকৌশল ও অবকাঠামোগত উপস্থিতি একটি নতুন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে চীনের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এবার সহযোগিতার বিষয়টি কেবল বাণিজ্যিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটিকে সরকার-টু-সরকার সহযোগিতার কাঠামোয় এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রথম আলো

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘ডিজিটাল লেনদেনে নতুন ধাপ শুরু করল বাংলাদেশ।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন আরও বাড়াতে চায় সরকার; যাতে টাকা ছাপানোর খরচ কমে। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। সেই সঙ্গে মানুষের কেনাকাটা, বিল পরিশোধসহ সব ধরনের লেনদেন সহজ করতে চায় সরকার। এ জন্য দেশের ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থাকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন করতে ‘বাংলা কিউআর’ (কুইক রেসপন্স) কোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলা কিউআর কোড চালুর ফলে যেকোনো ব্যাংক, মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকেরা এই কোডের মাধ্যমে সব ধরনের লেনদেন করতে পারছেন। অর্থাৎ যেকোনো ব্যাংক ও এমএফএসের গ্রাহকেরা পণ্য বা সেবা বিক্রেতার এক বাংলা কিউআর কোড দিয়েই অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা মেনে ইতিমধ্যে কোড ব্যবহার করা সব ব্যাংক ও এমএফএস তাদের নিজস্ব কিউআর কোড বদলে বাংলা কিউআর কোড চালু করেছে। এতে এক ছাতার নিচে এসেছে ডিজিটাল লেনদেনব্যবস্থা। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাংলা কিউআর কোড যত জনপ্রিয় হবে, ততই নগদ টাকার ব্যবহার কমে আসবে। এতে ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে যাবে।

চীন, এস্তোনিয়া, ভারতসহ আরও অনেক দেশ এমন উদ্যোগের মাধ্যমে লেনদেনব্যবস্থাকে ডিজিটাল মাধ্যমে রূপান্তর করেছে। নগদবিহীন (ক্যাশলেস) এই লেনদেনব্যবস্থা হয়েছে সহজ ও স্বচ্ছ। সামনে সরকারি সব ধরনের সেবার আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রেও বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট ব্যবহার ছাড়াই বাংলা কিউআর কোড দিয়ে লেনদেন চালুর পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলা কিউআর কোড চালুর উদ্যোগের বিষয়ে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. এহতেশামুল হক খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আমাদের সব কিউআর কোড বদলে বাংলা কিউআরে রূপান্তর করেছি। এতে সব ব্যাংক ও এমএফএসের গ্রাহক এসব প্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন করতে পারছেন। এই সুবিধার ফলে গ্রাহকের নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমে গেছে। পাশাপাশি ভাংতি টাকার প্রয়োজন হচ্ছে না। যেকোনো সময় মানুষ যেকোনো পরিমাণ লেনদেন করতে পারছেন।’

কালের কণ্ঠ

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘গেজেটের অপেক্ষায় পে স্কেল।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল চলতি জুলাই মাসে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

তবে বেতন বৃদ্ধির ধরন, কত ধাপে বাস্তবায়িত হবে, কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়বে এবং কবে গেজেট প্রকাশ করা হবে— এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পে স্কেলের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক দিক পর্যালোচনা শেষে চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি অথবা শেষ সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ করা হতে পারে।

নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে সরকার প্রথমে তিন ধাপের পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিল। পরে কর্মচারী সংগঠনগুলোর আপত্তি এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা বিবেচনায় সেটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা চলছে।

আজকের পত্রিকা

আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘পুরোনো অস্ত্রেই আক্রমণে সরকারি ও বিরোধী দল।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পুরোনো চর্চা থেকে বেরই হতে পারছে না। এখনো তারা পরস্পরের সমালোচনা বা আক্রমণের প্রয়োজন হলেই টেনে আনছে অতীত।

জাতীয় সংসদের বিতর্ক কিংবা রাজপথের কর্মসূচি— সবখানেই দলটির নেতাদের মুখে ঘুরেফিরে আসছে পরস্পরের অতীত কর্মকাণ্ড।

যদিও জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে নতুন ধারা তৈরির প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।

দুল দুইটির কথার এই লড়াইকে দেশের রাজনৈতিক চর্চার ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে তারা মনে করছেন, দুই দল জনসমক্ষে একে অপরকে আক্রমণ করলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাদের মধ্যে একধরনের কৌশলগত মনস্তাত্ত্বিক ঐক্য ও সহাবস্থান রয়েছে। নানাবিধ সমীকরণের কারণে দুই পক্ষের এই কথার যুদ্ধ ও সাময়িক দূরত্ব শেষ পর্যন্ত একটি সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

দেশ রূপান্তর

দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘শুটারের দাপটে বিপন্ন চট্টগ্রাম।’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট থেকে চলতি বছরের ১ জুলাই পর্যন্ত ২৩ মাসে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান এবং নগরীর পাঁচলাইশ, বায়েজিদ, বাকলিয়া ও চান্দগাঁও থানায় ৩৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

এ সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়াসহ আহত হয়েছে প্রায় ৩৫০ মানুষ। গুলি করে হত্যার ঘটনা ছিল ২০টি।

চব্বিশের অগাস্টে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া ৯৪৮ আগ্নেয়াস্ত্রের ১৫৫টি বিদেশি, সেগুলো এখনো উদ্ধার করা যায়নি। এসব অস্ত্র দিয়ে খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি প্রভৃতি অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, নগর ও জেলার রাউজানে সংঘটিত ৩৩ খুনের একটিরও তদন্ত শেষ হয়নি। আর রাউজানে ২৪ খুনের ঘটনায় অস্ত্রধারীরা এখনো অধরা।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন