মাদক খাইয়ে ধষর্ণের আন্তর্জাতিক চক্র উন্মোচন
ভুক্তভোগী জিসেল পেলিকট

মাদক খাইয়ে ধষর্ণের আন্তর্জাতিক চক্র উন্মোচন

ফন্ট সাইজ:

বৃটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি মাদক খাইয়ে অচেতন করে সুসংগঠিতভাবে ধর্ষণের একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক উন্মোচন করেছে। এই অপরাধচক্রে ভুক্তভোগীদের প্রথমে চেতনানাশক খাইয়ে অবশ করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের ওপর যৌন নিপীড়ন চালিয়ে তা ভিডিও করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা এই জঘন্য অপরাধ ঘটাচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন গার্ডিয়ান।

ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির ডেপুটি ডিরেক্টর নাইজেল লিয়ারি জানান, গত বছরের অক্টোবর থেকে একটি অনলাইন ফোরামের ওপর তদন্ত শুরু করে এ পর্যন্ত ২৭০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশের ডজনখানেক দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কাছে ইতিমধ্যে ২১০টিরও বেশি ইন্টেলিজেন্স প্যাকেজ বা তথ্য পাঠানো হয়েছে, যার ৯০ শতাংশই পাঠানো হয়েছে বৃটেনের বাইরে। বৃটেনের অভ্যন্তরে এই তথ্যের ভিত্তিতে অন্তত ১৪টি পৃথক তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ৮ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহার করে অপরাধীরা কীভাবে ভুক্তভোগীদের গোপনে মাদক খাইয়ে নির্যাতন করা যায়, কোন চেতনানাশক কীভাবে কাজ করে এবং কীভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দেয়া যায় তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করত। এমনকি অন্য অপরাধীদেরও এই যৌন নিপীড়নে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানানো এবং তা ভিডিও করার পরিকল্পনা করা হতো। তদন্তকারীরা জানান, অনেক ভুক্তভোগী বুঝতেই পারেন না যে তারা এই ধরণের অপরাধের শিকার হয়েছেন। যতক্ষণ না পুলিশ তাদের সাথে যোগাযোগ করে বা কোনো ডিজিটাল প্রমাণ সামনে আসে।

ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া আলোচিত ‘জিসেল পেলিকট’ মামলার উদাহরণ দিয়ে সংস্থাটি জানায়, অপরাধীরা মূলত পারিবারিক বা দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে এই অপরাধগুলো সংঘটিত করছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়া ফ্রান্সে একটি ঐতিহাসিক বিচারে জিসেল পেলিকটের সাবেক স্বামী ডমিনিক পেলিকটকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল, যিনি টানা এক দশক ধরে তার স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে অচেতন করে নিজে এবং আরও ৫০ জন পুরুষকে দিয়ে ধর্ষণ করিয়েছিলেন। ইউরোপোল জানিয়েছে, মাদক খাইয়ে যৌন নিপীড়নের এই আন্তর্জাতিক চক্রটিকে দমনে তারা ৭টি দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে যৌথভাবে কাজ করে ১৫৬ জন ভুক্তভোগী ও অপরাধীকে সনাক্ত করেছে। ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন অ্যান্ড গার্লস’-এর পরিচালক হেলেন মিলিচ্যাপ এই অপরাধকে একটি ক্রমবর্ধমান হুমকি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি এই অপরাধের মাত্রা ও পরিধি বদলে দিয়েছে, তাই আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাও পরিবর্তন করতে হবে। বৃটেনের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের প্রতিনিধি সিওভান ব্লেক তার ২৫ বছরের ক্যারিয়ারে এটিকে অন্যতম জঘন্য অপরাধ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ভুক্তভোগীদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে তারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে কাজ করছেন

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন