সিলেট নগরের বর্ধিত অঞ্চল নিয়ে মাস্টারপ্ল্যান

ফন্ট সাইজ:

তখন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। সিলেট নগরে নতুন করে ১৫ ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে বর্ধিত হয় নগর। তবে অন্তর্ভুক্ত হলেও গ্রামীণ আদলেই থাকে এসব এলাকা। নাগরিক সুবিধা বাড়েনি একটুও। ট্যাক্সের আওতায় আসেনি। ফলে এসব এলাকা নিয়ে মাঝখানে কাজ করেছেন সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। কম সময়ের কর্মকাণ্ডে সুফল মিলেনি। বর্তমান সরকার এই ওয়ার্ডগুলো নিয়ে মাস্টারপ্ল্যানে হাত দিয়েছে।

নগর কর্তৃপক্ষ বলছে, একটি মাস্টারপ্ল্যান এরইমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে। এই প্ল্যানের মধ্যে বর্তমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। এতে করে পরিকল্পনা মতোই আগামীতে কাজ হবে। আর এই মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছেন বর্তমান প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী। প্রশাসক মানবজমিনকে জানিয়েছেন, গ্রামের আদলেই রয়েছে নগরের ১৫ ওয়ার্ড। এসব ওয়ার্ডে সড়ক ও ড্রেনের কাজ চলছে। বিশাল ওই অংশে পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ঘটাতে মাস্টারপ্ল্যান করা হচ্ছে। এই প্ল্যানের মাধ্যমে কাজ করা হলে টেকসই উন্নয়নসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ধারাবাহিকতা থাকবে।

তিনি বলেন, ওই এলাকাগুলোতে আগে থেকেই ড্রেন ও সড়কের কাজ করা হচ্ছে। নতুন করে ওই প্রকল্পের জন্য ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ আসার পথে। ওই টাকা এলে কাজ অব্যাহত থাকবে। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্ধিত এলাকাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছে না। ফলে নগর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পিত উন্নয়নের দিকে এগুচ্ছে। এখন সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যুতের কাজ করা হচ্ছে। অনেক কাজ। মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হলে সেই প্ল্যানের সূত্র ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১৫টি ওয়ার্ড উন্নয়নের মূলস্রোতে চলে আসবে বলে জানান তারা। এদিকে, নগরের ওই বর্ধিত এলাকা মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় নিয়ে আসতে এরইমধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু হয়েছে।

সোমবার মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে প্রথম সভার আয়োজন করা হয়। এতে ঢাকা থেকে ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, সমন্বিতভাবে কাজ করলে সিলেট নগরকে একটি পরিকল্পিত, আধুনিক ও নান্দনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সিলেট নগরকে ঘিরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং আমার অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা ধাপে ধাপে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা হবে।

নগরবাসীর হাঁটাচলা, বিনোদন ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য পর্যাপ্ত পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান সৃষ্টির বিষয়টিও আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে। এ সময় প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন, একটি সুন্দর, টেকসই ও আধুনিক নগর গড়তে হলে সর্বাগ্রে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা। সে লক্ষ্যেই সিলেট নগরের জন্য একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নগরীর পরিকল্পিত সম্প্রসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, জলাবদ্ধতা নিরসন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণ এবং দুর্যোগ-সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার কার্যকর দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।

বাড়তে যাচ্ছে আরও ৫ ওয়ার্ড: সিলেট নগরে বর্তমান ওয়ার্ড সংখ্যা ৪২টি। নতুন করে আরও পাঁচটি ওয়ার্ড বাড়ানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নগর ভবনের কর্মকর্তারা। এ নিয়ে এরইমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। এই ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে নগরের তিন এলাকা সংযুক্ত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে- চা বাগান বাদ দিয়ে এয়ারপোর্ট হয়ে বাদাঘাট কেন্দ্রীয় কারাগার পর্যন্ত এলাকা, দক্ষিণ সুরমার সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বাইপাস ও মোল্লারগাঁও এলাকা, সিলেট তামাবিল সড়কের শাহপরান বাইপাস থেকে পীরের বাজার পর্যন্ত এলাকা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন