বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান আরও জোরদার করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিসিবি’র একাধিক প্রকল্প, আর্থিক লেনদেন, বিপিএল, বিদেশি কোচ নিয়োগ, আন্তর্জাতিক কনসার্ট আয়োজনসহ বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য চেয়েছে সংস্থাটি।
গত ১লা জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে জারি করা চিঠিতে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানের স্বার্থে বিসিবি’র বিভিন্ন প্রকল্প ও ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনা করা জরুরি। অভিযোগ অনুসন্ধানে উপ-পরিচালককে টিম লিডার করে তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল গঠন করেছে দুদক। দলে সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এবং উপ-সহকারী পরিচালক সুবিমল চাকমা রয়েছেন।
যেসব নথি তলব: দুদকের চিঠিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণ প্রকল্পকে। এ প্রকল্পে পরামর্শক (কনসালট্যান্ট) নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ার নথি, আগ্রহপত্র (ইওআই), মূল্যায়ন প্রতিবেদন, কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব, কার্যাদেশ, চুক্তিপত্র, গোপন ব্যয় প্রাক্কলনসহ সংশ্লিষ্ট সব রেকর্ড তলব করা হয়েছে। একইসঙ্গে স্টেডিয়াম নির্মাণে ঠিকাদার নিয়োগের পদ্ধতি, দরপত্র, মূল্যায়ন প্রতিবেদন, চুক্তি, বিল পরিশোধ, ব্যয় প্রাক্কলন, ডিপিপি, বিদেশ থেকে আমদানি করা মালামালের নথি এবং জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত দলিলও চাওয়া হয়েছে।
শুধু স্টেডিয়াম প্রকল্পই নয়, পাপনের সভাপতিত্বকালে বিসিবি’র সার্বিক আর্থিক ব্যবস্থাপনাও খতিয়ে দেখতে চাইছে দুদক। এজন্য বিসিবি’র আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদন, আইসিসি ও এসিসি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বণ্টনের নীতিমালা, লজিস্টিকস ও প্রটোকল খাতে ব্যয়, বিপিএল আয়োজনের ব্যয়, বিদেশি কোচ নিয়োগের নীতিমালা ও সম্মানী পরিশোধের কাগজপত্র তলব করা হয়েছে।
এ ছাড়া, বিসিবি’র অর্থ বিভাগ, লজিস্টিকস এবং বিপিএলের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিস্তারিত তথ্যও চাওয়া হয়েছে।
‘ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব-১০০’ কর্মসূচি নথি চায়
দুদক আরও জানতে চেয়েছে ‘ক্রিকেট সেলিব্রেটস মুজিব-১০০’ কর্মসূচিতে কতো টাকা ব্যয় হয়েছে এবং সেই ব্যয়ের নোটশিট ও রেকর্ডপত্র। একইসঙ্গে ভারতীয় সংগীতশিল্পী এ. আর. রহমানের কনসার্ট আয়োজন এবং ২০১৯ সালের ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’র ব্যয়ের বিস্তারিত নথিও চাওয়া হয়েছে। বিসিবি’র হিসাব নিরীক্ষায় কোন কোন অডিট ফার্ম কাজ করেছে, তাদের তালিকা এবং বিল পরিশোধসংক্রান্ত নথিও সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।
