এবার শুভেন্দুর দাবি, ১০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানোর

ফন্ট সাইজ:

অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী মোকাবিলায় পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। বুধবার জোকায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের হাসপাতালের একটি অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গাইডলাইন মেনে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গত ৪৫ দিনে বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর এবং ১২টি জায়গায় হোল্ডিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে। এই সেন্টারগুলোর মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীকে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে আরও হাজার-দেড় হাজার মানুষ হোল্ডিং সেন্টারে রয়েছেন। কিছুদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন ৪৮০০ জনকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

তবে এবার দশ হাজার মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংশয় প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, প্রতিদিনই বাংলাদেশের বিজিবি পুশইন করার চেষ্টা প্রতিহত করছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। জিরো পয়েন্টে অসহায়ের মতো অনেক সন্দেহভাজন বাংলাদেশি পরিবারগুলোকে বুভুক্ষু অবস্থায় বসে থাকতে হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে বিএসএফ তাদের ফেরতও নিয়ে আসছে বলে জানা গেছে। মুখ্যমন্ত্রী বুধবার এও জানিয়েছেন, ‘সীমান্ত এলাকার থানাগুলো বিএসএফের সহযোগিতায় অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে কারাগারে পাঠানোর পরিবর্তে সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারে পাঠাচ্ছে, যেখান থেকে প্রটোকল মেনে তাদের ফেরত দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামগুলো নিয়েও কাজ চলছে।’

আগামী ৭ই জুলাই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন প্রশ্নে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে উপস্থিত থাকবেন বরে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, জনবিন্যাসের পরিবর্তন নিয়ে গঠিত কেন্দ্রের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি খুব শিগগিরই রাজ্য সফর শুরু করতে চলেছে। একাধিক রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গেও আসবে কমিটি। সফরের আগে বুধবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে তার বাসভবনে বৈঠক করেন কমিটির সদস্যরা। সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য ইতিমধ্যেই প্রশ্নমালা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে জনবিন্যাসের পরিবর্তন, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং তার সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতির মূল্যায়ন করবে কমিটি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন