রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত কিয়েভ, নিহত ৮

রাশিয়ার হামলায় বিধ্বস্ত কিয়েভ, নিহত ৮

ফন্ট সাইজ:

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার চালানো এক ভয়াবহ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, এই হামলার পর শহরের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়া একটি বৃহৎ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সতর্ক করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই হামলা চালানো হলো।

কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর তকাচেনকো জানিয়েছেন, হামলায় আটজন নিহত হওয়া ছাড়াও আরও ২৫ জন আহত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি। তৈমুর তকাচেনকো বৃহস্পতিবার ভোরে জানান, শত্রুপক্ষ আবারও ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে। আমাদের এখানে অত্যন্ত গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং শিশুসহ বিপুল সংখ্যক মানুষ হতাহত হয়েছেন। হামলার সময় কিয়েভের রাতের আকাশে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্টা গুলির আলো দেখা যায় এবং ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের একের পর এক বিস্ফোরণে পুরো শহর কেঁপে ওঠে। শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরে যায় এবং একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অন্তত একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত দুই সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার এটিই প্রথম এত বড় মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা।

মস্কো ইউক্রেনে বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে এমন একটি নতুন গোয়েন্দা তথ্য হাতে আসার পর গত বুধবার প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি তার ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করেন। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছিলেন, আমি আমাদের জনগণকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার, নিজেদের, সন্তানদের এবং অবশ্যই তাদের পরিবারকে রক্ষা করার আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি আরও যোগ করেন যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেশ কিছুদিন ধরেই ইউক্রেনের বিরুদ্ধে এই বিশাল হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিয়েভে এই হামলার পর ন্যাটো সদস্য দেশ পোল্যান্ড তাদের আকাশসীমা সুরক্ষায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে ফাইটার জেট বা যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে।

পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ লিখেছে, এই পদক্ষেপগুলো সম্পূর্ণ সতর্কতামূলক এবং আমাদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখার জন্য নেয়া হয়েছে, বিশেষ করে হুমকির মুখে থাকা অঞ্চলের কাছাকাছি এলাকাগুলোতে। তবে পোল্যান্ডের সীমানার ভেতরে কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে, যুদ্ধক্ষেত্রের অন্য প্রান্তে রুশ বাহিনী সম্প্রতি পূর্ব ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি কোস্টিয়ান্তিনিভকা শহরের দিকে অগ্রসর হয়েছে। মস্কো যদি এই শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে, তবে তা পুরো দনবাস অঞ্চলে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করবে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের দাবি, তারা এই বছর হারানোর চেয়ে বেশি ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করতে পেরেছেন, যা রুশ সীমান্ত এবং অধিকৃত ক্রিমিয়ার মধ্যে মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ লাইনগুলোকে ব্যাহত করেছে। তবে সামগ্রিকভাবে গত কয়েক মাস ধরে দুই পক্ষের সেনারা নিজ নিজ অবস্থানে স্থবির হয়ে রয়েছে। বর্তমানে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন