রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সিতে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কতো শত ম্যাচ খেলেছেন দু’জন। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদরিচ। ছায়া হয়ে একে-অন্যের পাশে ছিলেন বেশ ক’টি বছর। জিতেছেন চ্যাম্পিয়নস লীগসহ অসংখ্য ট্রফি। ভাগ করে নিয়েছেন আনন্দ-বেদনার মুহূর্ত। ক্যারিয়ারের পড়ন্ত বেলায় সাবেক দুই ক্লাব সতীর্থ এবার বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে। বিশ্বকাপে একজনকে টিকে থাকতে হলে অন্যজনকে বিদায় নিতেই হবে। মঞ্চ প্রস্তুত টরোন্টোয়। শুক্রবার ভোর ৫টায় বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর মহারণে মদরিচের ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে রোনালদোর পর্তুগাল।
শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে দেখালেও ক্রোয়েশিয়া গুছিয়ে নিয়েছে নিজেদের। প্রতিপক্ষ যত বড় দলই হোক নকআউটে মদরিচরা তাদের চ্যালেঞ্জ জানাবেই। ২০১৮তে ফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়া গতবারও সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল। পথে তারা বিদায় করে দেয় ব্রাজিলকে। এবার নকআউট নিশ্চিত করার পরই ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্লাতকো দালিচ প্রচ্ছন্ন হুমকিতে বলেন, ‘অনেকেই আমাদের নিয়ে সন্দেহ করেছে। কিন্তু আমরা আবারো পুরনো ক্রোয়েশিয়ায় ফিরে এসেছি। এই দল কখনো হাল ছাড়ে না। আমাদের চরিত্রই হলো লড়াই করে ফিরে আসা।’ আর আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ইগর মাতানোভিচ বলেন, ‘পর্তুগাল সম্ভবত বলের দখল বেশি রাখবে। কারণ, মাঝমাঠে তাদের অসাধারণ মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। তাই আমাদের ধৈর্য ধরতে হবে এবং সুযোগ এলে তার সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে হবে।’
কলম্বিয়ার সঙ্গে ড্র করায় গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে নকআউটে পা রাখে পর্তুগাল। ২০০৬ সালের পর আর শেষ চারে পৌঁছাতে পারেনি দলটি। গত আসরে কোয়ার্টার ফাইনালে রোনালদোর স্বপ্ন ভাঙে মরক্কো। তবে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে পর্তুগালের রেকর্ড দারুণ আশা জাগানিয়া। অফিসিয়াল ও প্রীতি ম্যাচ মিলিয়ে ১০ বার মুখোমুখি হয়েছে দু’দল। ৭টিতেই জিতেছে পর্তুগাল। ক্রোয়েশিয়ার একমাত্র জয়টি দুই বছর আগে প্রীতি ম্যাচে। বড় টুর্নামেন্টে দু’দলের সাক্ষাৎ বলতে ২০১৬ ইউরো।
সেবার শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে জেতে পর্তুগাল। পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল দলটি। যা তাদের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক সাফল্য। রোনালদো অ্যান্ড কোং তাই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের ফেভারিট ভাবতেই পারে। পর্তুগিজ তারকা জোয়াও ফেলিক্স বলেছেন, ‘আমি সমর্থকদের বলবো শান্ত থাকুন। আমরা আত্মবিশ্বাসী। আমরা জানি আমাদের কী করতে হবে এবং আমরা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি।’ ক্রোয়েশিয়াকে নিয়ে ফেলিক্সের ভাবনা, আমরা তাদের ভালো করেই চিনি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের বিপক্ষে অনেকবার খেলেছি।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে নিষ্প্রভ ছিলেন রোনালদো। প্রশ্ন উঠেছে, ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে তাকে শুরুর একাদশে রাখা কতোটা যৌক্তিক সিদ্ধান্ত হবে? অবশ্য কোচ রবার্তো মার্টিনেজ রোনালদোকে বিশ্রাম দেয়ার পক্ষে নন। সে হিসেবে শুরু থেকেই মদরিচের সঙ্গে দ্বৈরথে দেখা যাবে তাকে। এ ছাড়া দু’দলের বড় তারকাদের সবাই ফিট রয়েছেন।
আইডলকে হারাতে চান সিলভা: লুকা মদরিচকে নিজের আইডল মানেন পর্তুগিজ তারকা বারনার্দো সিলভা। সংবাদমাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বলেন, ‘তার বিপক্ষে অনেকবার খেলার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। একবার রিয়াল মাদ্রিদ-ম্যানচেস্টার সিটি ম্যাচের পর আমি তার জার্সিও চেয়েছিলাম। আমার সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে বিশেষ জার্সিগুলোর একটি। আমি তার মঙ্গল কামনা করি। কিন্তু এই ম্যাচে নয়। এই ম্যাচে আমি তাকে হারাতে চাই। কিন্তু তারপরও তিনি আমার কাছে অসাধারণ এক অনুপ্রেরণা।’
ইতালি বাছাই পর্ব উতরাতে পারেনি। জার্মানি, নেদারল্যান্ডসের মতো দল শেষ ৩২ থেকে বিদায় নিয়েছে। পর্তুগালকেও কি এমন ভাগ্য বরণ করতে হবে? বারনার্দো অবশ্য এসব ঘটনাকে অঘটন মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে এখন আর এসব কোনো বিস্ময়ের বিষয় নয়। সব দলই এখন শক্তিশালী, শারীরিকভাবে সক্ষম। সবাই প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণ করে, সবাই খেলাটা খুব ভালো বোঝে। গত ১০ বছরে ফুটবলে বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন ফুটবল অনেক বেশি কৌশলনির্ভর এবং বিশ্লেষণভিত্তিক হয়ে উঠেছে। ফলে কোনো ম্যাচ জেতাই সহজ নয়। ব্রাজিল, জার্মানি কিংবা নেদারল্যান্ডসের ক্ষেত্রে যা দেখেছি, তাতে আমি মোটেও অবাক হইনি।’
