একক প্রশ্নপত্রে আজ থেকে শুরু হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ফন্ট সাইজ:

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আজ। এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন ১২ লাখ ৬৭ হাজার শিক্ষার্থী। এইচএসসিতে সারা দেশে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমদিনে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে কোরআন মাজিদ এবং কারিগরি বোর্ডে এইচএসসির (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সব বোর্ডে সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত। একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হওয়ায় প্রশ্ন ফাঁসরোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সংবাদ সম্মেলনে দেয়া তথ্যানুযায়ী, এ বছর মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৬ জন পরীক্ষার্থী। সারা দেশের দুই হাজার ৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে তারা পরীক্ষায় অংশ নেবেন।

প্রতিটি পরীক্ষার কক্ষে প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন করে কক্ষ পরিদর্শক, কোনো কক্ষে দু’জনের কম দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। ৫ বাই ৬ ফুট দীর্ঘ বেঞ্চে দু’জন এবং ৪ ফুট বেঞ্চে একজন পরীক্ষার্থী বসতে পারবেন। পরীক্ষার্থীরা সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সবাইকে নির্ধারিত কক্ষে প্রবেশ করতে হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে দেরিতে আসা শিক্ষার্থীদের তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণ করে প্রবেশের অনুমতি দেয়া যাবে। পরীক্ষা শুরুর তিনদিন আগে ট্রেজারি বা থানা লকারে সংরক্ষিত প্রশ্নপত্র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে যাচাই করতে হবে। পরীক্ষার দিন নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ট্যাগ অফিসার ও পুলিশের প্রহরায় কেন্দ্রে আনা হবে এবং মোবাইলের মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোড পাওয়ার পরই প্রশ্নপত্র খোলা যাবে।

নির্ধারিত সেটের বাইরে পরীক্ষা নেয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। সব পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা চালু রাখতে হবে এবং ক্যামেরার আইডি, পাসওয়ার্ড, ব্র্যান্ড, ডিভাইস সিরিয়াল নম্বর ও ডিভিআর/এনভিআর সংযোগের তথ্য শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে বলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করে কেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো কেন্দ্রে সিসিটিভি অকার্যকর থাকলে বা নিরাপত্তা ব্যবস্থায় শৈথিল্য ধরা পড়লে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা ইলেক্টনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না।

পরীক্ষার্থীরাও কাঁটাযুক্ত ঘড়ি ছাড়া অন্য কোনো ডিভাইস বহন করতে পারবে না। পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রে অপ্রয়োজনীয় উপস্থিতি বন্ধ রাখা, টয়লেট তল্লাশি, প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পরিবহনে পুলিশের সম্পৃক্ততা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরীক্ষা ঘিরে সার্বিক সমন্বয় ও জরুরি যোগাযোগের জন্য ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বিশেষ কন্ট্রোল রুম চালু করেছে। কন্ট্রোল রুমের টেলিফোন নম্বর- ০২-২২৩৩৬৯৮১৫।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধন করেও ফরম পূরণ না করায় ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৯ জন শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে প্রায় ৪ লাখ, মাদ্রাসা বোর্ডে ৬১ হাজার এবং কারিগরি বোর্ডে ৯০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। তিনি জানান, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি এবং সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী মানবিক বিভাগের।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তার নিকট বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। ফলে পরীক্ষা কেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম থাকবে। মোট ৭৭টি বিষয়ে ২১ দিনে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। যেদিন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, সেদিন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। হাওর, পার্বত্য অঞ্চল এবং দুর্গম চরাঞ্চলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কিছু ভেন্যু কেন্দ্র বিদ্যমান আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেভেন্থ-ডে অ্যাডভেন্টিস্ট সম্প্রদায়ের পরীক্ষার্থীদের শনিবারের পরীক্ষা বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা কেন্দ্রে সূর্যাস্তের পর অনুষ্ঠিত হবে।
এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এ বছর তিন সেট প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে উল্লেখ করে ড. মিলন বলেন, যেকোনো ধরনের সংকট মোকাবিলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রস্তুত। গত এসএসসি পরীক্ষা নিয়েও কিছু বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল। এ বছর ভুয়া নিউজ ছড়ালেই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় পরীক্ষা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি ছড়ালে যাচাই করে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাগুলো সমন্বিতভাবে আয়োজনের বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ভর্তি কার্যক্রম শুরুর আগেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তিনি কোচিং সেন্টারের বিষয়ে বলেন, যখন আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিকভাবে লেখাপড়া করে না তখন কোচিং সেন্টার দরকার হয়। যখন প্রতিষ্ঠানিকভাবে তারা ওই সময়টা কাজে লাগাতে পারে না তখন কোচিংয়ে যায়। কোচিং সেন্টার বানাতে সরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে। শিক্ষকদের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা হবে। একইসঙ্গে কোচিং সেন্টার পরিচালনার ক্ষেত্রেও অনুমোদন ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৮ সাল থেকে নতুন কারিকুলাম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। উত্তরপত্র মূল্যায়নে পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ, খাতা পুনর্মূল্যায়ন এবং খাতা দেখার ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোচিং সেন্টার পরিচালনায় সরকারি অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে একক ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, মাউশি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন