হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জের লাদিয়া-পুরাসুন্দা সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকার এই উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ শেষ হওয়ার আগেই নতুন কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিভিন্নস্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবাদের মুখে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। সরজমিন দেখা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কের অর্ধেক অংশে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্নস্থানে নতুন কার্পেটিং উঠে অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার, নতুন ম্যাকাডম না দিয়ে পুরোনো সড়কের উপরই কার্পেটিং করা এবং যথাযথ তদারকির অভাবের কারণে সরকারি অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি টেকসই উন্নয়নও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১ কোটি ১৮ লাখ ১১ হাজার ৮৫৮ টাকা ব্যয়ে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার লাদিয়া থেকে পুরাসুন্দা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আব্দুস সামাদ আজাদ। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠতে থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা করিম হোসেন অভিযোগ করে বলেন, যেসব স্থানে গাইডওয়াল নির্মাণের প্রয়োজন ছিল, সেখানে তা নির্মাণ না করে তুলনামূলক নিরাপদ স্থানে গাইডওয়াল করা হয়েছে। কোথাও কোথাও গাইডওয়ালের পরিবর্তে কলাগাছ ও বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয় স্কুলশিক্ষক আলতাফ চৌধুরী বলেন, বহুদিনের প্রত্যাশিত এই সড়ক সংস্কারের উদ্যোগে আমরা আশাবাদী ছিলাম।
কিন্তু নিম্নমানের কাজ ও তদারকির অভাবে সেই আশা এখন হতাশায় পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি সুমন মিয়া কার্পেটিং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যেসব স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে, সেগুলো পুনরায় মেরামত করা হবে। নির্ধারিত মান বজায় রেখেই কাজ সম্পন্ন করা হবে। উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সুজাত খান বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে বৃষ্টির কারণে কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে এলে পুনরায় কাজ শুরু করা হবে এবং যাতে সড়কটি আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইরাজ উদ্দিন দেওয়ান বলেন, সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হবে। কাজের মান নিশ্চিত না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো বিল পরিশোধ করা হবে না। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে নিম্নমানের কাজের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে টেকসই ও মানসম্মত সড়ক নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
