ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের ১১ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সভাপতিসহ ১০ নেত্রী একযোগে পদত্যাগ করেছেন। নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুন্নি আক্তারকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বুধবার বিকেলে নবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দেন। কমিটির ১১ সদস্যের মধ্যে ১০ জনের পদত্যাগে স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার আংশিক কমিটি ঘোষণার পরপরই ত্যাগী নেত্রীদের অবমূল্যায়ন, জুনিয়রদের প্রাধান্য দেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ ওঠে। এর জের ধরে সাধারণ সম্পাদক মুন্নি আক্তার ছাড়া সভাপতি শাহীনুর আলমসহ কমিটির নয়জন নেত্রী সম্মিলিতভাবে কমিটি প্রত্যাখ্যান করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। অসুস্থতার কারণে সহ-দপ্তর সম্পাদক বীনা আক্তার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে না পারলেও লিখিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্তে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেত্রীরা অভিযোগ করেন, নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মুন্নি আক্তারকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাঁকে তারা চেনেন না। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী, মামলা-হামলার শিকার হওয়া এবং কারাবরণকারী নেত্রীদের উপেক্ষা করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কারণে তারা নবগঠিত কমিটি থেকে সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নবগঠিত কমিটির সভাপতি শাহীনুর আলম বলেন, ‘আমি সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ত্যাগী নেত্রীদের বাদ দিয়ে অপরিচিত একজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে, যা আমি মেনে নিতে পারিনি। তাই কমিটির অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পদত্যাগ করেছি।’
এ সময় পদত্যাগকারী নেত্রীরা ঢাকা জেলা মহিলা দলের সভাপতি রাহিমা শিলা ও সাধারণ সম্পাদক সুলতানা খন্দকারের পদত্যাগ দাবি করেন। পাশাপাশি তাদের এলাকায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এর আগে, নতুন কমিটি ঘোষণার পর সিনিয়র সহ-সভাপতি জোসনা বেগমসহ একাধিক নেত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
