হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং

ফন্ট সাইজ:

নোয়াখালীর কবিরহাটে রাস্তার সংস্কার কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া, পাথর আর বিটুমিন ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে কাজ শেষ হওয়ার পরদিনই হাতের টানে সড়কের কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। সরজমিন এমন দৃশ্যের দেখা মিললো উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট সড়ক সংস্কার কাজে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ও পরিমাণে কম বিটুমিন ব্যবহারের ফলেই রাস্তার এমন বেহাল দশা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নলুয়া গ্রামের কালাম হুজুরের দোকান থেকে ইতালি মার্কেট সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যাওয়ায় সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। প্রায় কোটি টাকা ব্যয়ে আড়াই কিলোমিটার সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ পান চাষী নামে এক ঠিকাদার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শিডিউল না মেনে কবিরহাট উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেনকে ম্যানেজ করে কয়েকদিন ধরে সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ করেন ঠিকাদারের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার তারা সড়কের ৯৮ ভাগ ঢালাইয়ের কাজ শেষ করেন। পরদিন শুক্রবার সকালে স্থানীয় লোকজন হাত দিয়ে টানলে উঠে আসে রাস্তার কার্পেটিং। স্থানীয় ননা মিয়ার দোকানের সামনের রাস্তার এমন একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার বিকালে ঠিকাদারের লোক সড়কে গিয়ে গালমন্দ করে চলে যায়। অভিযোগ রয়েছে- ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী, নোয়াখালী কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় এমন অবস্থা হয়েছে। এর নেপথ্যে রয়েছেন খোদ নোয়াখালী এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন।

নিম্নমানের কাজ শেষে বিল পাইয়ে দেয়ার জন্য তার সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা সহযোগিতা করেন। স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে গেলে অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি উপজেলা প্রকৌশলী। বরং তিনি ঠিকাদারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, কাজের শিডিউল ও সংশ্লিষ্ট তথ্য পেতে হলে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করতে হবে। এর বাইরে তিনি কোনো তথ্য প্রদান করবেন না বলে জানান। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ঠিকাদার মো. চাষীর মুঠোফোনে একাধিক কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তাই এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইসলাম হোসেন বলেন, স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি কয়েকবার কাজ পরিদর্শনে যান। যে অভিযোগ উঠেছে এটা কোনো অভিযোগের আওতায় পড়ে না। কিছু উৎসুক জনতা কার্পেটিং তুলে ফেলেছে। ইতিমধ্যে সড়কের কাজ শেষ হয়ে গেছে। কোনো কিছু জানার থাকলে তথ্য আইনে আবেদন করুন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে নোয়াখালী এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মাহফুজুল হোসাইন বলেন, এখানে কোনো সিন্ডিকেটের বিষয় নেই। কোথাও কাজের গাফিলতি হয়ে থাকলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন