চট্টগ্রামের হালিশহরের এক বাসায় বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া দুইজন মা-ছেলে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শাওন (১৬)। এর আগে, সোমবার মারা যান শাওনের মা নুরজাহান আক্তার রানী (৪০)। এ নিয়ে এই ঘটনায় দুইজন মারা গেলেন।
ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার রাতে চট্টগ্রাম থেকে দগ্ধ ৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে ৫০ শতাংশ দগ্ধ শাওন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে, ১০০ শতাংশ দগ্ধ নুরজাহান আক্তার রানীকে জরুরি বিভাগে মৃত ঘোষণা করা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ভর্তি থাকা অন্যদের অধিকাংশের অবস্থাই গুরুতর। শাখাওয়াত হোসেন ও আশুরা আক্তার পাখির শরীরের শতভাগ দগ্ধ হয়েছে। মো. শিপনের ৮০ শতাংশ, মো. সামির আহমেদ সুমনের ৪৫ শতাংশ, আয়েশা আক্তারের ৪৫ শতাংশ, উম্মে আয়মান স্নিগ্ধার ৩৮ শতাংশ এবং মো. ফারহান আহমেদ আনাসের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।
সোমবার ভোরে হালিশহরের এইচ ব্লকের হালিমা মঞ্জিল নামে ৬ তলা ভবনটির তৃতীয় তলার একটি বাসায় জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। এতে পুরো বাসায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বাসায় থাকা শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগে স্থানীয়রা আগুনে দগ্ধদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল নিয়ে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট গিয়ে আগুন নেভায়। বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুরো ভবন। দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতি ইউনিটের দরজা ভেঙে গেছে এবং ছিঁড়ে গেছে ভবনের লিফট।
মৃত রানী ও শাওন ছাড়া দগ্ধ বাকিরা হলেন-রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তার আরেক সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের পর্তুগাল প্রবাসী ছোটভাই সামির আহমেদ (৪০), সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ছয়তলা ভবনটির নিচ তলায় গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। অন্য তলাগুলোতে চারটি করে ইউনিট আছে। তৃতীয় তলায় যে ফ্ল্যাটটিতে আগুন ধরে যায় সেটি ছাড়াও ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটের দরজা জানালা ভেঙে গেছে। তৃতীয় তলায় লিফটের দরজা ভেঙে গেছে আর দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায় লিফটের দরজা বাঁকা হয়ে গেছে। তৃতীয় তলায় সাখাওয়াত হোসেনের যে ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, সেটি ছাড়াও আরও তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে সেখানে। একটিতে পরিবার নিয়ে থাকেন জসীম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। তার ফ্ল্যাটটি সাখাওয়াতের ফ্ল্যাটের ঠিক মুখোমুখি। পাশের ফ্ল্যাটে থাকেন শামীমা আক্তার তমা নামে এক নারী। সেখানে তিনি একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করেন। অপর ফ্ল্যাটটির বাসিন্দারা সবাই ঢাকায় থাকার কারণে সেটি ছিল তালাবদ্ধ। ওই তলার প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা ভেঙে যাওয়াসহ কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বিউটি পার্লারের কর্ণধার শামীমা আক্তার তমা জানান, বিস্ফোরণের সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তার। এরপর তিনি দেখেন ঘরের দরজা উড়ে গিয়ে তার পার্লারের আলমারি ও শোকেসের গ্লাস ভেঙেছে। ওই বাসাটি থেকে চিৎকার শুনে দরজায় গিয়ে দেখি তারা দৌঁড়ে ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন। আর ঘরের ভেতর আগুন জ্বলছিল। বের হওয়ার সময় তাদের শরীরে আগুনও দেখা গেছে।
বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী আলমগীর হোসেন জানান, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হয় না। কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির গ্যাসের সংযোগ রয়েছে। কোনো কারণে চুলা থেকে হয়তো গ্যাস লিক হয়েছিল, যে কারণে রান্নাঘরে গ্যাস জমে যায়। সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে সবাই দগ্ধ হয়েছেন।’
চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মায়ের পর ছেলের মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম
অনলাইন
৩ মাস আগে
২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬, ১২ঃ৫৭ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
