বাণের পানির মতো মানুষ। রাতের অন্ধকার ভেদ করে জলোচ্ছ্বাসের মতো ফুলে ফেঁপে উঠছিল সেই বাণ। মানুষে মানুষে সয়লাব রাজধানী মেক্সিকো সিটি। দেশটির অন্য প্রান্তেরও একই অবস্থা। কোথাও তিল ধারণের স্থান নেই। তবু মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসছিল। আসবে নাইবা কেন! দীর্ঘ ৪০ বছরের অবসান ঘটিয়ে তারা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে ইকুয়েডরকে হারিয়েছে। সেই আনন্দে বাধভাঙ্গা জোয়ার পুরো মেক্সিকোতে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা ৪০ বছর কোনো ম্যাচ জিততে না পারা মেক্সিকো এবার ইতিহাস গড়েছে। চলতি বিশ্বকাপে টানা চতুর্থ ম্যাচেও তারা কোনো গোল হজম করেনি। একই সঙ্গে এটি বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে মেক্সিকোর ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় জয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ফিফা একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে মেক্সিকো সিটির রাস্তায় হাজারো সমর্থককে উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা যায়। ফিফা এই জয়কে দল এবং সমর্থকদের জন্য ‘ঐতিহাসিক এক রাত’ বলে বর্ণনা করেছে। ফিফা লিখেছে, মেক্সিকো সিটির দৃশ্য! ঠিক ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় জয় উদ্যাপন করছেন মেক্সিকোর সমর্থকরা।
সহ-আয়োজক মেক্সিকো মঙ্গলবার শেষ ৩২-এর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাল দলটি। পরিসংখ্যান বিষয়ক প্রতিষ্ঠান অপ্টাজো’র তথ্য অনুযায়ী, এটি ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেক্সিকোর প্রথম জয়। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের নকআউটে টানা আটটি ম্যাচে বিদায়ের হতাশাজনক রেকর্ডেরও ইতি টেনেছে তারা, যা ছিল প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ এমন ধারাবাহিকতা।
ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে ম্যাচটি এক ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়। তবে তাতে মেক্সিকোর ছন্দে কোনো প্রভাব পড়েনি। অপরাজিত থাকার পাশাপাশি দলটি তাদের দুর্দান্ত রক্ষণভাগের ধারাবাহিকতাও বজায় রেখেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে মেক্সিকো। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ইকুয়েডরের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে জুলিয়ান কিনোনেস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এর কিছুক্ষণ পরই রাউল হিমেনেস ব্যবধান ২-০ করেন। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই স্বাগতিকরা স্বস্তিদায়ক ব্যবধান গড়ে তোলে।
দ্বিতীয়ার্ধে ইকুয়েডর বলের দখল বেশি রাখলেও কার্যকরভাবে ম্যাচে ফিরতে পারেনি। মেক্সিকোর দৃঢ় রক্ষণভাগ আরেকটি ম্যাচে প্রতিপক্ষকে গোলশূন্য রাখতে সক্ষম হয়। বাড়তি সময়ে ইকুয়েডরের ডিফেন্ডার পিয়েরো হিনকাপিয়ে লাল কার্ড দেখলে তাদের পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। এটি চলতি বিশ্বকাপে মেক্সিকোর টানা চতুর্থ জয়। পাশাপাশি টানা চার ম্যাচে কোনো গোল না হজম করে দলটি নিজেদের অন্যতম শিরোপাপ্রত্যাশী হিসেবে আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। হাভিয়ের আগিরের শিষ্যরা শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ড ও ডিআর কঙ্গোর মধ্যকার শেষ ৩২-এর ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ অভিযান আরও এগিয়ে নেয়াই এখন তাদের লক্ষ্য।
