হোয়াটসঅ্যাপের ৩০০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারীর জন্য একটি বড় প্রাইভেসি ফিচার যুক্ত হতে যাচ্ছে। এখন থেকে ব্যবহারকারীরা ফোন নম্বরের পরিবর্তে নির্দিষ্ট ‘ইউজারনেম’ বা ব্যবহারকারী নাম ব্যবহার করতে পারবেন। মেটার মালিকানাধীন এই যোগাযোগ মাধ্যমটি সোমবার জানিয়েছে, তারা ইতিমধ্যেই অনন্য ইউজারনেম রিজার্ভ বা সংরক্ষণ করার সুযোগ দেয়া শুরু করেছে। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
ফিচারটি চালুর ফলে চলতি বছরের শেষের দিকে ব্যবহারকারীরা চাইলে তাদের ফোন নম্বর পুরোপুরি লুকিয়ে রাখতে পারবেন এবং শুধুমাত্র ইউজারনেমের মাধ্যমে অন্যদের সাথে যোগাযোগের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন। হোয়াটসঅ্যাপ জানিয়েছে, এটি একটি মূল প্রাইভেসি ফিচার হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে, যার কোনো পাবলিক ডিরেক্টরি বা অটো-কমপ্লিট সাজেশন থাকবে না। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তির সাথে প্রথমবার যোগাযোগ করতে হলে তার সঠিক ইউজারনেমটি হুবহু জানতে হবে।
হোয়াটসঅ্যাপের প্রোডাক্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যালিস নিউটন-রেক্স সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এটিকে একটি কোর প্রাইভেসি ফিচার হিসেবে তৈরি করেছি। প্রথমবার যোগাযোগের জন্য অপর প্রান্তের মানুষকে আপনার সঠিক ইউজারনেমটি জানতে হবে। বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের প্রাইভেসি সেটিংস মূলত নির্দিষ্ট নম্বর ব্লক করা কিংবা অপরিচিত কলারদের সাইলেন্ট করে রাখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। যদিও প্রোফাইল নাম যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে, তবে সেটি কেবল চ্যাট গ্রুপে তাদের জন্যই দৃশ্যমান হয় যাদের কাছে নম্বরটি সংরক্ষিত নেই। নতুন এই পরিবর্তনের ফলে আকর্ষণীয় এবং অনন্য ইউজারনেমগুলো লুফে নেয়ার জন্য ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। আর এই কারণেই হোয়াটসঅ্যাপ আগেভাগেই ইউজারনেম সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটি শুরু করেছে। মেটার অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম যেমন ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুকের নিবন্ধিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটররা হোয়াটসঅ্যাপে তাদের একই ইউজারনেম দাবি করার সুযোগ পাবেন। এই ইউজারনেমগুলো ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে হতে হবে।
এছাড়া কোনো সেলিব্রিটি, সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সুপরিচিত ব্যক্তিত্বের পরিচয় নকল বা অপব্যবহার রোধ করতে হোয়াটসঅ্যাপ হাই-প্রোফাইল নামের ইউজারনেমগুলো আগে থেকেই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বা হোল্ডে রাখবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সমস্ত ব্যবহারকারী এই সুবিধাটি পর্যায়ক্রমে পেতে শুরু করবেন।
