আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স, সুযোগসন্ধানী সুইডেন

আত্মবিশ্বাসী ফ্রান্স, সুযোগসন্ধানী সুইডেন

ফন্ট সাইজ:

জীবনে কখনো কখনো কঠিন সময় আসে। দায়িত্ব আর ব্যক্তিগত বেদনা একে অন্যের মুখোমুখি হয়। ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম এখন সেই বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপের মাঝপথে মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়ে জাতীয় দল ছেড়ে দেশে ফিরতে হয় তাকে। মাকে শেষ বিদায় জানিয়ে আবারো ফিরেছেন শিষ্যদের মাঝে। শোকের ভার নামানোর সময়টুকু নেই। বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট ম্যাচেই এখন সব মনোযোগ দেশমের। রাউন্ড অব ৩২-এ ফরাসিদের সামনে সুইডেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টায় শুরু হবে ম্যাচটি।
গ্রুপ পর্বে টুর্নামেন্টের অন্যতম ছন্দে থাকা দল ফ্রান্স। তিন ম্যাচেই জয়। দেশমের অনুপস্থিতিতে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়েকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয় ফ্রান্স।

ম্যাচ শেষে সহকারী কোচ গি স্টেফান বলেন, ‘দিদিয়েরকে বিশেষ কিছু উপহার দিতে চেয়েছিলাম। এই জয়টা ওর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’ সুইডেনকে হারিয়ে মাতৃশোক আরেকটু হালকা করতে চাইবেন দেশম। আর বিশ্রাম থেকে ফেরা কিলিয়ান এমবাপ্পের লক্ষ্য থাকবে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার। চার গোল নিয়ে এই মুহূর্তে মেসির (৬) পেছনে রয়েছেন তিনি। গত ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা দেম্বেলের জন্যও ম্যাচটি প্রমাণের নতুন মঞ্চ।
ফ্রান্স ছাড়া গ্রুপের সব ম্যাচ জিতেছে কেবল আর্জেন্টিনা ও মেক্সিকো। প্রতিপক্ষের জালে ১০ বার বল পাঠিয়েছেন এমবাপ্পে-দেম্বেলেরা। নরওয়ের বিপক্ষে উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিক দেখিয়ে দিয়েছে, এমবাপ্পেকেও ছাড়াও কতটা ভয়ঙ্কর ফ্রান্স। মাইকেল ওলিস, ব্রাডলি বারকোলা কিংবা মাঝমাঠে অরেলিয়েন চুয়ামেনিদের নিয়ে দেশমের স্কোয়াডে বিকল্পেরও অভাব নেই।

পরিসংখ্যানেও ফ্রান্স অনেকটাই এগিয়ে। ১২ জয়ের বিপরীতে ছয় হার। ড্র হয়েছে পাঁচ ম্যাচ। সর্বশেষ পাঁচ দেখায় চারটিতেই জিতেছে ফ্রান্স। সুইডেনের জয় মাত্র একটি। তবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে দু’দলের এটাই প্রথম সাক্ষাত।
ইতিহাস আর স্কোয়াডের গভীরতায় ফ্রান্স ফেভারিট, তাই বলে সুইডেনকে দুর্বল ভাবার কারণ নেই। নিজেদের দিনে তারা যেকোনো দলের জন্যই দুঃস্বপ্নে পরিণত হতে পারে। আর তৃতীয় হয়ে নকআউটে পা রাখা সুইডেনের হারানোরও কিছু নেই। তাই ফেবারিটের চাপটা যেন পুরোপুরি ফ্রান্সের কাঁধে তুলে দিতে চাইছে সুইডিশরা। মিডফিল্ডার ড্যানিয়েল সভেনসন বলেন, ‘ফ্রান্স বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি। কিন্তু আমরা নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বাস করি। সুযোগ পেলে ওদেরও আঘাত করতে পারি।’

সুইডেনের পরিকল্পনাও পরিষ্কার। রক্ষণে যতটা সম্ভব শৃঙ্খলাবদ্ধ থেকে সুযোগ পেলেই আলেকজান্ডার ইসাক ও ভিক্টর গিয়োকেরেসকে কাজে লাগিয়ে পাল্টা আক্রমণে ওঠা। সভেনসনের ভাষায়, ‘রক্ষণে সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে। আর সুযোগ পেলেই তা কাজে লাগাতে হবে।’

সুইডেনকে কোনো সুযোগ দিতে চাইবে না ফ্রান্স। একটি ভুল, একটি মুহূর্তের অসাবধানতাই চার বছরের স্বপ্ন ভেঙে দিতে পারে। তাই খুব বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটার সম্ভাবনা নেই। ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ জানিয়েছে, নিজেদের গতানুগতিক ৪-৩-৩ ছকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে চান দেশম। একাদশে চারটি পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। নরওয়ের বিপক্ষে বেঞ্চে ছিলেন লুকাস দিনিয়ে। তিনি ফিরছেন। থিও হার্নান্দেজ নরওয়ের বিপক্ষে খুব একটা ভালো খেলেননি। একটি পেনাল্টিও উপহার দিয়েছেন। কাজেই দিনিয়েই দেশমের প্রথম পছন্দ। লেফট উইংয়ে বারকোলার থাকার সম্ভাবনা বেশি। মাঝমাঠে মানু কোনোয়ের জায়গায় ফিরছেন আদ্রিয়েন রাবিও। রক্ষণে ম্যাক্সাস লাক্রোয়ার বদলে খেলবেন উইলিয়াম সালিবা। তবে মার্কাস থুরামের থাকা অনিশ্চিত। রোববার দলের অনুশীলনে দেখা যায়নি থুরামকে। ম্যাচের আগে আবার আলোচনায় মেটলাইফ স্টেডিয়ামের পিচ। সেনেগালের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচটিও ফ্রান্স খেলেছিল এই মেটলাইফে। সেখানকার পিচ নিয়ে মোটেও সন্তুষ্ট ছিলেন না ফরাসি তারকারা। তারা অভিযোগ তোলে বলেন, বল অপ্রয়োজনীয়ভাবে লাফাচ্ছিল, যা খেলার স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। তবে গ্রাউন্ডসম্যানদের চেষ্টায় মাঠের অবস্থা আগের চেয়ে উন্নত হয়ে বলে দাবি করা হচ্ছে। সবশেষ মেটলাইফে পানামার বিপক্ষে খেলেছে ইংল্যান্ড। মিক্সড জোনে খেলোয়াড়রা কোনো অভিযোগ জানাননি। তবে দাবদাহের পূর্বভাস থাকায় ফ্রান্স ও সুইডেনের খেলোয়াড়দের বেশ ভুগতে হবে এবার। ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সঙ্গে ভ্যাঁপসা আদ্রতা যেন এক অদৃশ্য প্রতিপক্ষ। সব প্রতিকূলতা জয় করেই আজ শেষ ষোলোর টিকিট কাটতে হবে ফ্রান্স-সুইডেনকে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন