শৈশবকে রঙিন করা জাদুকর মুস্তফা মনোয়ার

শৈশবকে রঙিন করা জাদুকর মুস্তফা মনোয়ার

ফন্ট সাইজ:

পারুল-বাউলদের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? বাংলাদেশ টেলিভিশনের শিশুতোষ অনুষ্ঠান ‘মনের কথা’-তে দেখা যেতো তাদের মজার সব কাণ্ডকারখানা। শৈশবের আনন্দ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়া এই বিশেষ আয়োজনের রূপকার ছিলেন প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী মুস্তফা মনোয়ার। গতকাল সকালে এই কিংবদন্তি সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের প্রয়াণের খবর প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই স্তব্ধ হয়ে উঠলো গোটা দেশ। কারণ প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের শৈশবকে রঙিন করেছিলেন এই শিল্পী। মুস্তফা মনোয়ার ছিলেন পাপেটশিল্পের পথিকৃৎ। আধুনিক টেলিভিশনের মাধ্যমে পাপেটশিল্পকে তুলে ধরেন, পুতুলের মুখ থেকে কথা শুনিয়ে শিশুদের মনে কৌতূহল তৈরি করে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন।

‘মনের কথা’ অনুষ্ঠানে পারুল আর বাউলের মজার মজার গল্প, আর একটু পর পর একটি গরুর ‘হাম্বা’ ডাক শিশুদের আনন্দে ভাসাতো। বাউল হাতে একতারা নিয়ে গান গাইতো, আর পারুল এসে গল্প জুড়তো। চারুকলায় পড়াশোনা করলেও মুস্তফা মনোয়ার পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন টেলিভিশনকে। পাপেট ছিল তার আগ্রহের মূল কেন্দ্রবিন্দু। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি পাপেট নিয়ে কাজ করেছেন এবং তৈরি করেছেন অসংখ্য অনুসারী ও গুণগ্রাহী। কলকাতা আর্ট কলেজ থেকে পাস করার পর ঢাকা আর্ট কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি প্রথম পাপেট নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। মূলত গ্রামবাংলার পুতুলনাচ ছোটবেলাতেই তাকে আকৃষ্ট করেছিল। বাংলাদেশে পাপেট তৈরি ও কাহিনী সংবলিত পাপেট প্রদর্শনের মূল উদ্যোক্তা তিনিই। নিজের পাপেট দল এবং বাংলাদেশের ফোক পাপেট দল ধনমিয়াকে নিয়ে তিনি মস্কো ও তাসখন্দ সফর করেছিলেন, যা সেখানে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছিল। তার পাপেটের কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘পারুল’ নামটি নেয়া হয়েছিল আবহমান বাংলার ‘সাত ভাই চম্পা’ লোককথা থেকে। আনন্দময় শিক্ষা কর্মসূচিতে পাপেটকে প্রয়োগ করতেই তিনি এই চরিত্রটি বেছে নিয়েছিলেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন