শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, শুধু সেমিনারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবসম্মত ও টেকসই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশ থেকে শিশুশ্রম নির্মূল করতে হবে। আর শিশুশ্রম নির্মূলের কাজ শুরু হতে হবে নিজের ঘর থেকে। তিনি আইএলও সহ এই খাতে কর্মরত সকল দেশী-বিদেশী সংস্থাকে দেশের সর্বাধিক শিশুশ্রম প্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস, ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ‘শিশুশ্রমকে না বলি, শোভন কর্ম পরিবেশ নিশ্চিত করি” এই বৈশ্বিক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন প্ল্যাটফম এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা।
মন্ত্রী বলেন, বস্তি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সচেতনতা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আমাদের আরও কাজ করতে হবে। একটি শিশু সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে কিনা, তা নিশ্চিত করা আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা। তিনি আরও বলেন, মানবসম্পদ দেশের সবচেয়ে বড় নিয়ামত এবং এই সম্পদকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি আগামী এক বছরের মধ্যে টেকসই ও ফলপ্রসূ পাইলট প্রোগ্রাম ডিজাইন করে তা বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী বলেন, পরের বছর আমি দেখতে চাই, পাইলট প্রোগ্রামের মাধ্যমে আমরা কত শতাংশ শিশুকে শ্রম থেকে ফিরিয়ে এনে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা দিতে পেরেছি। বক্তৃতায় যা বলব, তা যেন কাজে বাস্তবায়ন করতে পারি এটাই আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ। শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরির জন্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মসজিদে জুমার খুতবায় শিশুশ্রমের কুফল এবং এ বিষয়ে ধর্মীয় নির্দেশনা নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে। একইভাবে রামকৃষ্ণ মিশন, বৌদ্ধ বিহার এবং চার্চসহ সকল ধর্মীয় উপাসনালয় ও ধর্মীয় সভাকে এই সচেতনতা তৈরিতে কাজে লাগাতে হবে।
এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদুল হামিদ শিশুশ্রম নিরসনে খাতভিত্তিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং এ বিষয়ে সিএলইপি-এর যৌথ উদ্যোগসমূহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সচেতনতার অভাবও শিশুশ্রমের অন্যতম কারণ। তাই আমাদের তৃণমূল পর্যায় থেকে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে সম্পৃক্ত করে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করা সম্ভব, যা বাংলাদেশ থেকে শিশুশ্রম দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে শিশুশ্রম পরিস্থিতির একটি সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করা হয়, যেখানে এ খাতে দেশের অর্জনের পাশাপাশি বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোও তুলে ধরা হয়। শিশুরা শিশু অধিকারবিষয়ক সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। “বাংলাদেশে শিশুশ্রম নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ ও সবার যৌথ দায়িত্ব” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় সরকার, নিয়োগকর্তা, শ্রমিক প্রতিনিধি এবং আইএলও-এর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় শিশুশ্রম নিরসনে বাস্তবসম্মত সমাধান এবং অংশীজনদের যৌথ দায়িত্ব ও করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তারফদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএলও বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব ম্যাক্স টুনন।
