বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার লজ্জাজনক বিদায়ের পর পদত্যাগ করেছেন প্রধান কোচ হং মিউং-বো। তবে বিষয়টিকে কেবল স্পোর্টিং ব্যর্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছেন না দেশটির রাষ্ট্রপতি লি জে মিউং। দক্ষিণ কোরিয়ার এই অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির পেছনে কোনো স্বজনপ্রীতি বা অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে রাষ্ট্রীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ফিফা র্যা ঙ্কিংয়ের ৩২ নম্বরে থাকা এবং টটেনহ্যাম তারকা সন হিউং-মিনের নেতৃত্বাধীন দক্ষিণ কোরিয়া গ্রুপ ‘এ’ থেকে বিদায় নেয়। মেক্সিকোর পর তুলনামূলক দুর্বল, র্যা ঙ্কিংয়ে ৬০তম দল দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ১-০ গোলে হেরে গ্রুপে তৃতীয় হয় তারা। ৪৮ দলের নতুন নিয়মে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে শেষ ৩২-এ যাওয়ার ক্ষীণ আশা টিকে ছিল তাদের। তবে শনিবার বাকি ম্যাচগুলো শেষ হলে সেই সমীকরণও ভেস্তে যায়।
দল বিদায় নিতেই মেক্সিকোতে এক সংবাদ সম্মেলনে হং মিউং-বো পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘সমর্থকরা যে ফলাফল আশা করেছিলেন, আমি তা পূরণ করতে পারিনি। এই ব্যর্থতার পুরো দায় আমার।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারব না যে আমার নেয়া সব সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। তবে আমি এতটুকু বলতে পারি, আমার প্রতিটা সিদ্ধান্ত কোরিয়ান ফুটবলের কথা চিন্তা করেই নেয়া।’ ২০০২ বিশ্বকাপে অধিনায়ক হিসেবে কোরিয়াকে সেমিফাইনালে তোলা এই কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ২০১৪ বিশ্বকাপেও কোচ হিসেবে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেন। ২০২৪ সালে তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে কোচ করা হয়। তখন থেকেই সমর্থকরা অভিযোগ তোলেন যে, যোগ্য কোনো বিদেশী কোচ না খুঁজে কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) নীতিনির্ধারকেরা স্রেফ বন্ধুত্বের খাতিরে হং-কে এই চেয়ার উপহার দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি লি জে মিউং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ক্ষোভ উগরে দিয়ে লেখেন, ‘যোগ্যতার চেয়ে যখন স্বজনপ্রীতি আর চাটুকারিতা দেখে সেনাপতি নির্বাচন করা হয়, তখন এর ফলাফল আগুনের মুখে কাগজের মতোই নিশ্চিত।’
এদিকে কোরিয়ার অফিশিয়াল ফ্যান ক্লাব ‘রেড ডেভিলস’ কোচকে আজীবনের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে, অনলাইনে হংকে হত্যার হুমকি দেয়ায় দল যখন দেশে ফিরবে, তখন ইনচিওন বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন জায়গায় বাড়তি পুলিশ ও নিরাপত্তা জোরদার করার কথা জানিয়েছে প্রশাসন।
