মৌলভীবাজারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরে দলের এক নেতাকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এনসিপি’র মৌলভীবাজার জেলা শাখার মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হুসাইন শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন- শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মৌলভীবাজার শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে জুনেদের নেতৃত্বে দলের কয়েকজন লোক মৌলভীবাজার শহরের কোদালিপুর এলাকার জাম্বু মিয়ার গ্যারেজের পেছন থেকে তাকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলেন। তিনি তাদের সঙ্গে যেতে না চাইলে গলায় ছুরি ধরে জোরপূর্বক গাড়িতে তুলে শ্রীমঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়। এ সময় তাকে হুমকি দেয়া হয় তুই এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াচ্ছিস তোকে মেরে গুম করে ফেলবো।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, একপর্যায়ে অপহরণকারীরা তাকে বলে তুই আমাদেরকে চিনে ফেলছিস। তোকে বাঁচিয়ে রাখলে আমাদের সমস্যা হবে। আমরা ও আমাদের নেতা রক্ষা পাবে না। সুতরাং তোর মরতে হবে। এই বলে অপহরণকারীরা ভৈরব বাজারের পূর্বে পাহাড়ি সড়কে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এই ঘটনা এবং স্থান পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ পিছু নেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে শ্রীমঙ্গল শহরের ২ নম্বর পুল এলাকায় তাকে নামিয়ে দিয়ে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।
আব্দুল্লাহ আল হুসাইন জানান, কুলাউড়ায় কেন্দ্রীয় নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের সফর উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ২৬শে জুন সকালে মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গাড়িবহর কুলাউড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় জেলা এনসিপি’র সদস্য সচিব রুহুল আমিন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি এবং এনসিপি’র অন্য কয়েকজন নেতাকর্মীর মধ্যে দাওয়াত প্রদান, কর্মসূচি ব্যবস্থাপনা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের গাড়িতে অবস্থানকে কেন্দ্র করে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
কুলাউড়ায় কর্মসূচি চলাকালীন দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ ছাড়া, কুলাউড়ার কর্মসূচি শেষে মৌলভীবাজার শহরের শমসেরনগর রোডে আরেক দফা এহসান জাকারিয়ার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে অপহরণের ঘটনাটি এনসিপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিরোধের জেরে সংঘটিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে দলের নিজস্ব নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ কার্যক্রম গ্রহণ এবং অধিকতর তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
