সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তবর্তী লাউড়েরগড় শাহিদাবাদে হযরত শাহ আরেফিন (র.)-এর মোকামের দানবাক্স, মানত ও বার্ষিক ওরসের আয়-ব্যয়ের অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বিকালে স্থানীয়দের আয়োজনে মোকাম প্রাঙ্গণে এ নিয়ে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা মোকাম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও খাদেমের অপসারণ, আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মোকামের আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। বাদাঘাট ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি আব্দুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাজিদুর রহমান গোলাপ, আব্দুল মান্নান, শফিকুল ইসলাম, মাইনুউদ্দিন, এডভোকেট আব্দুল কুদ্দুস রনি, ইসমাইল হোসেন, জসিম উদ্দীন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, প্রায় সাতশ’ বছর আগে ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সাধক হযরত শাহ আরেফিন (র.)-এর মূল আস্তানা ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ের ওপর সাতগুহায় অবস্থিত। তবে সীমান্তের এপারে লাউড়েরগড় শাহিদাবাদে তার নামে গড়ে ওঠা মোকামে দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্ত দান-সদকা ও মানত নিয়ে আসেন। নগদ অর্থ ছাড়াও গরু, মহিষ, ছাগল, হাঁস-মুরগি, স্বর্ণ ও রৌপ্যসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী মোকাম কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়া হলেও এসবের স্বচ্ছ হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয় না বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভক্ত মো. জসিম উদ্দিন জানান, ১৯৮৯ সালে তিনি পুরান লাউড়-মোকসেদপুর যৌথ সমাজকল্যাণ হযরত শাহ আরেফিন (র.) আলাইহি যুব সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন। সে সময় মোকাম পরিচালনা কমিটির সভাপতি ছিলেন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন। তখন প্রতি বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ভক্তদের সামনে উপস্থাপন করা হতো। কিন্তু বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলম ছাব্বির দায়িত্ব নেয়ার পর সেই স্বচ্ছতা আর নেই। তিনি বলেন, দায়িত্ব ছাড়ার সময় মোকামের তহবিলে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা ছিল। প্রতি বছর ওরস উপলক্ষে প্রায় পাঁচ শতাধিক অস্থায়ী দোকান বসে, যেখান থেকে দোকানপ্রতি এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা ভাড়া নেয়া হয়। এ ছাড়া দানবাক্স, মানতের পশু ও স্বর্ণ- রৌপ্য মিলিয়ে বছরে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আয় হলেও কমিটির পক্ষ থেকে মাত্র ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা আয় দেখানো হয়। প্রকৃত ব্যয় দেড় থেকে দুই লাখ টাকা হলেও ৮ থেকে ৯ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হচ্ছে এখন। মোকামের খাদেম আব্দুল করিম বলেন, তিনি প্রায় ৫০ বছর ধরে মোকামের খেদমত করে আসছেন। ভক্তদের দেয়া নগদ অর্থ, পশু, স্বর্ণ ও রৌপ্যসহ সব ধরনের দান সাধারণ সম্পাদক আলম ছাব্বিরের কাছেই জমা দেন। এরপর এসবের কী হয় সে বিষয়ে তার কোনো ধারণা নেই।
মোকাম পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলম ছাব্বির বলেন, এ কমিটির দায়িত্বে সভাপতির পদে রয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার, অর্থ সম্পাদক পদে মোদেরগাঁও গ্রামের আবু সুফিয়ান এবং আমি সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছি। সভাপতি ও অর্থ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে টাকা জমা হয় এবং মোকাম বাবদ খরচ করা হয়ে থাকে। আমি শুধু ২২ বছর ধরে এখানে হিসাব-নিকাশ করে আসছি। তিনি বলেন, বর্তমানে মোকামের যৌথ ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা জমা রয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান মানিক বলেন, গত দুই বছর ধরে এখানে ওরস হচ্ছে না। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর একবার দানবাক্স খুলে ১ লাখ ১৬ হাজার টাকা পেয়েছি, যা মোকামের যৌথ ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, মোকামের অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
