লালমোহন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে গ্রাহক হয়রানি

ফন্ট সাইজ:

ভোলার লালমোহন উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল, মিটারে কারসাজি, ঘুষ এবং অনৈতিক দাবির কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। নানা সমস্যা নিয়ে প্রতিদিনই অফিসে ভিড় করেন গ্রাহকরা। তাদের ভেতর একেক জনের একেক সমস্যা। কারও অতিরিক্ত ইউনিটে বিদ্যুৎ বিল বেশি, কারও সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার পরও ভুতুড়ে বিল আসা, মিটারের জন্য আবেদন করে কারও দীর্ঘ অপেক্ষা, আবার কেউ আগের মাসের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলেও ওই বিল আবার পরের মাসে যোগ হয়ে যাওয়া। এসব সমস্যা নিয়ে গ্রাহকদের প্রতিনিয়ত অফিসে গিয়ে এদিক-ওদিক ছুটোছুটি করতে হয়। কেউ ক্যাশ কাউন্টারে, কেউ অভিযোগ ডেস্কে, আবার কেউ বা বিলিং শাখায়। এমন ছুটোছুটি করেও সঠিক সমাধানের জন্য বেগ পেতে হয় গ্রাহকদের।

লালমোহন পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের সওদাগর চৌমুহনি এলাকার বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, আমার জুন মাসের বিল ইস্যুর তারিখ ছিল ৪ঠা জুন। যেখানে বিলে দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৯২৫ কিলোওয়াট। তবে আমি ২১শে জুন মিটার চেক করে দেখি ৭ হাজার ৮৯৪ কিলোওয়াট। এখানে আমার প্রশ্ন- মিটারে যা আছে তার চেয়ে বিলে কীভাবে কিলোওয়াট বেশি হয়েছে। মনে হচ্ছে, বিদ্যুৎ অফিসের মিটার রিডাররা মিটার না দেখেই ভুয়া বিল তৈরি করেছেন। আমি ওই সমস্যা সমাধানের জন্য বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে তানজুমা নামের এক বিলিং সহকারীকে সমস্যার কথা বললে তিনি বিল দেখে বলেন ৩১ ইউনিট বেশি লিখেছে, এতে আপনার ভালো হয়েছে। কারণ এখন বিদ্যুতের দাম বেড়ে গেছে। আপনি আগের কম দামে বিল পরিশোধ করতে পারবেন। যদিও পরে তিনি বিলের কাগজ রেখে দিয়ে জানিয়েছেন, অফিস থেকে পরে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যাটির সমাধান করা হবে।

অপরদিকে, পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ফাতেমা বেগম ২০১৮ সালে অফিসের নিয়ম মেনে তার মিটারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তবে দীর্ঘ ৮ বছর পর চলতি বছরের জুন মাসে তার নামে ৮০ হাজার টাকার বিল করে পাঠানো হয়। তার দাবি, মিটারই তো বন্ধ ছিল তাহলে আমার নামে এই বিল আসলো কীভাবে? এতেই বুঝা যায় বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছেন না। চরভূতা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হারুন অর রশিদ নামে আরেক গ্রাহক বলেন, প্রতি মাসে একই পরিমাণে বিল আসলেও হঠাৎ তিনগুণ বেশি বিল এসেছে। যার কারণ জানতে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে একতলা থেকে আরেকতলা দৌড়দৌড়ি করার পর সংশ্লিষ্টরা জানান, আগের যে বিল রয়েছে তা জমা দিতে।

তারপর সমস্যা সমাধান করা যাবে। এখন মনে হচ্ছে এই অফিসের লোকজন ইচ্ছা করেই ভুল করেন। এ ছাড়া বিদ্যুৎ অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা গ্রাহকদের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিক নয় এবং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ বিষয়ে লালমোহন পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, অনেক সময় ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত রিডিং বেশি হতে পারে। তবে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা অভিযোগ দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তা ঠিক করে দিই। এ ছাড়া অফিসে আসা কোনো গ্রাহককে হয়রানির সুযোগ নেই। তারপরও যদি অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রাহকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করলে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন